রাঙামাটি: চলমান শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে বিশেষ নারী সম্মেলন করেছে সাজেকের প্রতিবাদী নারী সমাজ।
উল্লেখযোগ্য যে, বৃহস্পতিবার অবরোধের ৮ম দিনেও সাজেক পর্যটন সড়কে বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করা হয়।
দাবি না মানলে অবরোধ চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
এদিকে, নারী সম্মেলনে সীমা চাকমার সঞ্চালনায় পার্বত্য নারী সংঘ সভাপতি অমিতা চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাজেক নারী সমাজের প্রতিনিধি নিরুপা চাকমা,উজ্জলা চাকমা,সোনা চাকমা।
নিরুপা চাকমা বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ও সেটলার কর্তৃক পাহাড়িদের ভূমি বেদখল,নারী ধর্ষণ খুন গুমসহ যে সকল অন্যায় অত্যাচার দমনপীড়ন চলমান সেখান সেখানে নারী সমাজ প্রতিরোধে দূর্গো হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি সাজেকে শান্তিপূর্ণ অবরোধে গঙ্গারাম উজোবাজারে নারী -পুরুষ-শিশুদের বিনা উস্কানির সেনাদের বর্বরোচিত হামলা নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাজেকে জনগণের ওপর নিপীড়নের ইতিহাস যেমন রয়েছে, লড়াইয়ের বিজয়ের ইতিহাস ও রয়েছে।
বুদ্ধপদি চাকমা,লক্ষ্মী বিজয় চাকমা,লাদুমনি চাকমারা শিখিয়ে গেছে কিভাবে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে আত্মাবলিদান দিতে হয়। আমরাও তাদের উত্তরসূরী।
উজ্জলা চাকমা বলেন,সেনাবাহিনীর কাজ হচেছ দেশের সার্বভৌমত্ব ও বহিঃশত্রুদের হাত থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া। দেশের সাধারণ জনগণের ওপর নিপীড়ন করা কাজ নয়।
যুগ যুগ ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর কর্তৃক সাধারণ জনগণ শোষিত নিপীড়িত। তারা রক্ষক সেজে ভক্ষকের কাজ নিয়েছে। পাহাড়ি মা বোনদের ভয় ভীতি ও আতষ্ক হচেছ সেনাবাহিনী।
তিনি গত ২২ অক্টোবর গঙ্গারাম উজোবাজারে শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে সেনা হামলার তদন্তে করে সুষ্ঠু বিচার ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী এসোসিয়েশনের পাঁচ দফার ন্যায্য দাবী অতিদ্রুত বাস্তবায়নের দাবী জানান।
সোনা চাকমা বলেন, আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে ও অন্যায় বিরুদ্ধে ঐক্যেবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে। সমাজে দালাল প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর মুখোরোচক কথা বার্তা কিংবা হুুমকি ধমকি উপেক্ষা না করে নারী সমাজকে জেগে উঠতে হবে।
তিনি সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারী এসোসিয়েশনের পাঁচ দফা ন্যায্য দাবী সমর্থন করে নারী সমাজকে আন্দোলনের জন্য তৈরি হওয়ারও আহব্বান জানান।
