ফরিদপুর: বাংলাদেশ নিয়ে আমি আপনি সবাই হতাশ, কি হবে এই দেশের? যেখানে মৌলিক চাহিদা চিকিৎসা সেবার কোন ব্যবস্থা ঠিক নেই!?
ওমুকের টাকা আছে, ওমুক নেতার আলমারি ভর্তি টাকা- জ্বর হলেই চলে যাচ্ছে বিদেশে চিকিৎসা করাতে- আপনি আমি কী করবো? দেশেই পচে মরো।
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত করার কোনো চেষ্টাই নেই সরকারের। এরা কেবল গলাবাজি করে।
ফরিদপুরের ঘটনা শুনলে শিউরে উঠবে গা।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক মায়ের পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়! অবশেষে তিনি মারাই গেলেন।
অস্ত্রোপচারের প্রায় পাঁচ মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন ওই নারী।
মৃত নারীর নাম বিথী আক্তার (২৫)। তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়ার রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। বিথী ডিপ্লোমা মিডওয়াইফারি কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন।
ঘটনাটি মে মাসের। বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম জানান, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।
অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা বিথীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন। অথচ সেটা আইডেন্টেফাই হয়নি।
আর এই গজ থেকে যাওয়ার জন্য সিজারের পরে নানান রকম সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন তিনি।
একপর্যায়ে তাঁর অবস্থার খুব অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে নাড়িতে জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জটিলতা কিন্তু বাড়তেই থাকে।
অনেক চিকিৎসা করা হয় তাঁর। কিন্তু এই দেশে তাঁর শরীর উন্নত করার মতো কোনো আসল চিকিৎসা হয়নি।
বিথীকে সুস্থ করতে বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা করানো হলেও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
আর দিনে দিনে ওজনও মারাত্মকভাবে কমতে থাকে। যা আরো আশঙ্কাজনক। তার ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে ৩৮ কেজিতে নেমে যায়।
নিজের নবজাতককে ভালোভাবে বুকের দুধ পর্যন্ত খাওয়ানোর অবস্থা তাঁর ছিলো না।
অবশেষে শিশুটাকে রেখে চলেই গেলেন চিকিৎসার ভুলে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ড জানান, বিথীর স্বামী গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বর সার্জারি বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিথীর পেটে গজ দেখতে পান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৫ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে কি না জানতে চাইলে মানস কৃষ্ণ কুণ্ড বলেন, বৃহস্পতিবার বিথীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি তদন্ত কমিটির প্রধানের কাছে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।কমিটির প্রধান আরও সাত দিন সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন।
