ঢাকা: বন্ধ হয়ে গেল বাউল গানের আসর। এমন ঘটনা অহরহ ঘটেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন কালে।

দেশের ক্ষমতা বিএনপির হাতে এখন। কিন্তু সাংস্কৃতিক পরিবেশে পরিবর্তন এল না।

বাউলগানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে, এই আশঙ্কার কথা বলে আসরে আপত্তি জানানো হয়। ইসলাম অবমাননা হয় সব কাজে।

সুনামগঞ্জে বন্ধ হয়ে গেল বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের এলাকার একটি ঘরোয়া বাউলগানের আসর।

ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন তসলিমা নাসরিন।

তিনি বলেন, “শাহ আবদুল করিমের দিরাইয়ে বাউলগান বন্ধ। অভিযোগ –‘গানের নামে অশ্লীলতা হতে পারে।’ গান এখনও হয়নি, অশ্লীলতার বিচার হয়ে গেছে! কী অসাধারণ দূরদৃষ্টি!

মেয়ের জন্মদিনে নিজের বাড়িতে দুজন নারীশিল্পীকে দিয়ে গান গাওয়াতে চেয়েছিলেন এক লোক। ব্যস, ধর্মীয় মূল্যবোধ বিপন্ন! গ্রামের মসজিদ আছে, মাদ্রাসা আছে, আলেম-ওলামা আছেন, ওয়াজ হয় — অতএব গান চলবে না।

মসজিদ-মাদ্রাসা থাকলে গ্রামের মানুষের কান, কণ্ঠ আর আনন্দের অধিকারও কি তাদের কাছে জমা রাখতে হয়?

আগে মেয়েদের ফুটবল বন্ধ হয়েছে, এবার মেয়েদের গান। মেয়েরা মাঠে নামলে আপত্তি, মঞ্চে উঠলে আপত্তি, কারও বাড়িতে গাইলেও আপত্তি। মেয়েদের পা চলবে না, গলা খুলবে না। তারপর এই মেয়েদেরই শেখানো হবে, ধর্ম তাদের কত সম্মান দিয়েছে!

পুলিশ বলছে, আয়োজক ‘নিজেই’ অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন। বাহ্‌, কী চমৎকার স্বেচ্ছাসিদ্ধান্ত! একদিকে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখিয়ে আবেদন, অন্যদিকে থানা থেকে ফোন। এর মধ্যে একজন মানুষ ঝামেলা এড়াতে পিছিয়ে গেলে সেটাই তাঁর স্বাধীন ইচ্ছে ? নিরাপত্তা দিয়ে অনুষ্ঠানটি হতে দেওয়ার ব্যবস্থা কোথায় গেল?

‘সামাজিক সম্প্রীতি’ কথাটারও কী চমৎকার ব্যবহার শিখেছে এরা! আমাদের অপছন্দের সব বন্ধ করো, তাহলেই সম্প্রীতি। আমাদের কথামতো বাঁচো, তাহলেই শান্তি।

এই ধর্মীয় খবরদারি বন্ধ হোক। বাতিল হওয়া গানের আসর নিরাপত্তা দিয়ে হতে দেওয়া হোক। মেয়েরা খেলবে, মেয়েরা গাইবে। কারও ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার জন্য মেয়েদের জীবন থেকে একে একে সব আনন্দ মুছে ফেলার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি । গান শুনতে না চাইলে শুনবেন না। নিজের কান সামলান, অন্যের কণ্ঠ নয়”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *