নেত্রকোনা: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় শিক্ষকের ধর্ষণে ১১ বছরের এক শিশু ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি তীব্র ঘৃণার জন্ম দিয়েছে দেশের জনমনে। হুজুররা লেবাস পরে, দাঁড়ি টুপি পরে আর কত কুকর্ম করবেন?

অভিযুক্ত তথা ধর্ষক ঐ শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর স্থানীয় হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মারাত্মক রক্তস্বল্পতা ও শারীরিক গঠনগত অপূর্ণতার কারণে শিশুটির জীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যে নিজেই একটি শিশু সে কীভাবে আরেক শিশু বহন করবে?

এ ঘটনায় গত ৩০ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে সপরিবারে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

লেখক তসলিমা নাসরিন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন:

“নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কওমী মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষক ১১ বছর বয়সী একটি এতিম শিশু-ছাত্রীকে ধর্ষণ করে করে গর্ভবতী বানিয়েছে। এইসব ধর্মীয় মৌলবাদির বিরুদ্ধে কোনও আলেম ওলামা, মাদ্রাসা মসজিদের মোল্লা মৌলানারা কোনও শব্দ উচ্চারণ করে না।

সারা দেশের অগুণতি মাদ্রাসায় প্রতিদিন অগুনতি শিশুকে এই বদমাশরা ধর্ষণ করছে। ধর্মব্যবসায়ীরা এদের সহায়। তাই এই ধর্ষকদের কোনও শাস্তি পেতে হয় না।

মাঝে মাঝে খবর বেরোয় এদের জেলে নেওয়া হয়েছে। দুদিন পরই এরা ধর্মের রাজনীতির সহায়তায় জেল থেকে বেরিয়ে আবার ধর্ষণকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

মাদ্রাসা নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত এই ধর্ষকদের হাত থেকে শিশুদের মুক্তি নেই। শিশু-ধর্ষণ মহামারির আকার নিয়েছে বাংলাদেশে। সরকারের কোনও হেলদোল নেই।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর কন্যাকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যান। ভাল যে তার কন্যা প্রচুর নিরাপত্তা রক্ষী দ্বারা বেষ্টিত থাকে। তা না হলে হয়তো কবেই তাকে ধর্ষণের দেশ বাংলাদেশে ধর্ষিতা হতে হতো।

না, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা বলে নয়, স্রেফ মেয়ে বলে। কোনও মেয়ের নিরাপত্তা বাংলাদেশে নেই। সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে শিশুরা”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *