ঢাকা: ধর্ষণ কেন বাড়ছে? মৌলবাদী, কট্টরপন্থীরা বলে ধর্ষণ বাড়ে নারীর পোশাকের জন্য। তাই নাকি?

৮ বছরের রামিসা, আছিয়া ওরা? ওদের পোশাক দায়ী? বলুন!?

নাহ! আসলে পোশাক টোশাক কিচ্ছু না। আইনের প্রয়োগ কঠোরভাবে না হওয়া, বিকৃতকাম এর জন্য দায়ী। এরা সমাজে থাকার জীব না। নারীকে এই বিকৃত মস্তিষ্কের পুরুষেরা ভোগ্য বস্তু ছাড়া আর কিছু মনে করে না।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রতিক সময়ে কন্যাশিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েছে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, উঠছে প্রশ্ন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৪৬ শিশু। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৪ শিশু এবং ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে। ধর্ষণের শিকার দুই শিশু আত্মহত্যা করেছে।

আর, বিভিন্ন ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ১১৫ শিশু খুন হয়েছে। হয়তো সংখ্যাটা আরো বেশিই হবে।

এবং লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিশুরা তার প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠজনের লালসার শিকার হয়েছে। অর্থাৎ মেয়ে শিশু কারো কাছে নিরাপদ না।

বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব ঘটনার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ প্রবণতা নয়; দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দায়ী।

লেখক তসলিমা নাসরিন এই ধর্ষণের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা লিখেছেন তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে।

তসলিমা লিখেছেন:

“লিঙ্গপালেরা শরিয়া আইন কেন চায়? চায় অবাধে শিশু ধর্ষণ করতে। শরিয়া আইনে ধর্ষণ বৈধ কারণ শরিয়া আইনে ধর্ষণ বলে কোনও টার্ম নেই। বিবাহ বহির্ভূত সেক্সকে বলা হয় জিনা বা ব্যভিচার।

শরিয়া আইনে এই ব্যভিচারে জড়িত সকলকেই অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়।

তসলিমা বলেন, ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করলেও সেটা ব্যভিচার, ব্যভিচার করার জন্য শাস্তি হবে ধর্ষক এবং ভিকটিম দুজনের; অর্থাৎ ৩ বছরের ভুক্তভোগী শিশুটিরও শাস্তি হবে।

ব্যভিচারকে ব্যভিচার হিসেবে দাঁড় করাতে হলে প্রমাণ আনতে হবে, ৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক বিশ্বাসযোগ্য পুরুষ সাক্ষী ছাড়া জিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগও ধোপে টিকবে না।

আপনি যদি অভিযোগ করেন , কিন্তু সাক্ষী আনতে না পারেন, তবে অভিযোগ করার জন্য আপনি শাস্তি পাবেন।

বিস্তারিত আরো লেখেন তসলিমা নাসরিন।

“কাফেলা থেকে নেমে যুবতী আয়শা যুবক সাফওয়ানের সঙ্গে মরুভূমিতে একবার হারিয়ে গিয়েছিল। লোকে বলাবলি করেছে নিশ্চয়ই তারা তখন সেক্সে লিপ্ত ছিল।

এই খবর প্রচার হওয়ার পর মান ইজ্জত বাঁচাতে নবী মুহম্মদ ঘোষণা করেন, কমপক্ষে চারজন সাক্ষী আনতে হবে ঘটনার, বলতে হবে তারা সেক্সের দৃশ্যটি স্বচক্ষে দেখেছে।

আয়শা আর সাফওয়ানের সে**ক্স আয়শা আর সাফওয়ান ছাড়া অন্য কেউ দেখেনি বলে সে যাত্রা নবীর বিবিকে দুর্নাম থেকে বাঁচিয়েছিলেন স্বয়ং নবী । সেই থেকে চারজন সাক্ষী আনার আইন শুরু হলো ইসলামে।

শরিয়া আইনের অনেক বৈষম্যই বাংলাদেশের পারিবারিক আইনে(বিবাহ, তালাক, সন্তানের অভিভাকত্ব, উত্তরাধিকার আইনে) বলবৎ আছে। এখন লিঙ্গপালেরা দেখছে তারা নিশ্চিন্তে শিশু ধর্ষণ করতে পারছে না, ধরা পড়লে জেলে যেতে হচ্ছে।

এইরকম ইহুদি নাসারার সভ্য আইন তারা চায় না, তারা বাল্যবিবাহ অর্থাৎ শিশুবিবাহের আইন চায়, যেন শিশুদের বিয়ে করে মনের সুখে ধর্ষণ করতে পারে।

ধর্ষণ শেষ হলে তো তালাক তালাক তালাক বললেই তালাক হয়ে যাবে, শরিয়া আইনের মজা শুধু শিশুবিবাহে নয়, যখন তখন কোনও কারণ না দর্শানোর তালাকেও।
২ শরিয়া আইন এলে ছেলে-শিশুদের বলাৎকার বৈধ হবে।

বলাৎকার বা ধর্ষণ বলে, আগেই বলেছি, কোনও টার্ম নেই শরিয়া আইনে, বা কোরানের আইনে, বা আল্লাহর আইনে। দুই পুরুষের যৌন স/ঙ্গম বা স/ডোমির বিরুদ্ধে কোরানে লেখা আছে বটে, কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোনও আইন নেই। পুরুষেরা তাই নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে ছেলে-শিশুদের ধর্ষণ করে যেতে পারবে, কাউকে জেল হাজতের মুখ দেখতে হবে না।

আর কী কী সব ভয়াবহ কান্ড হবে, তা এখন হয়তো অনুমান করতে পারছেন না। লিঙ্গপালরাই তখন রাজত্ব করবে। পাথর জোগাড় করে রাখুন এখনই, মেয়েদের তো পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হবে। ওয়েল্কাম টু বর্বর আরবদের বর্বর যুগে”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *