ঢাকা: শান্তির নোবেলজয়ী ইউনূসের শাসনকালে বিভীষিকাময় সময় কাটিয়েছে বাংলাদেশ।
৫ই জুলাই ২০২৪-এর পর থেকে প্রায় ৪ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার ওপর প্রকাশ্যে দিনেদুপুরে যখন তখন ইউনুসের মব-সন্ত্রাস-বাহিনী দ্বারা অমানবিক-নিপীড়ন চালানো হয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কখনও কোনো প্রতিকার-প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়নি।
মব সন্ত্রাসের জনক ইউনূস। শুধু মব-সন্ত্রাসের জনক না, দেশবিক্রেতা, শিশু- গণ হত্যাকারী, সুদখোর ইউনুস সরকারপ্রধান হিসেবে কোনো পদক্ষেপ নেননি সামাজিক এইসব ঘটনা, অপকর্ম কমানোর।
বরং তার মব-সন্ত্রাস-বাহিনীকে ফাঁকে ফাঁকে অধিকতর উস্কানি দিয়েছিলেন, যাতে আরও বেশি বিভৎস নিপীড়ণ হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে মাত্র তিন মাসেই চার হাজারের বেশি শিক্ষক মব সন্ত্রাসের শিকার হন। ব্যক্তিগত ও মতাদর্শিক বিরোধ ছিল এর প্রধান কারণ।
মতে না মিললেই মব করো। মারো, ধরো, করার টেনে ধরো। শিক্ষকদের এই কারণেই টার্গেট করা হয়েছে যাতে দেশটা মেধাশূন্য হয়ে পড়ে।
সরকারের নির্লিপ্ততার সুযোগে দেশটাকে জিম্মি করে ফেলেছিল ঘাপটি মেরে থাকা রাজনৈতিক মাস্তানগুলো। জামাত শিবিরের কথায় উঠেছেন আর বসেছেন ইউনূস। পর্দার আড়ালে দেশ চালিয়েছে তারা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরই দেশজুড়ে শুরু হয় ‘মবোৎসব’।
শিক্ষকদের সাথে কী করা হয়নি? কত হিন্দু শিক্ষকের চাকরি খেয়ে দেয়া হয়েছে ভয় দেখিয়ে।
মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষাগুরুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, স্বৈরাচারের দোসর তকমা দিয়ে অপমান-অপদস্থ, শারীরিক-মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়েছে।
জোর করে পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয়েছে, তারপর লঞ্ছিত করে তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বেতন-ভাতাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবারের ওপরও চালানো হয়েছে নিপীড়ন।
বিশেষ করে তিনমাসের কথাই বলা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর- এই তিন মাসে ঘটে গেছে মব-সন্ত্রাসের সব নজিরবিহীন ঘটনা। তবে পরেও যথেষ্ট ঘটেছে।
ঠিক কতজন শিক্ষক মবের শিকার হয়েছেন- সুনির্দিষ্টভাবে সে সংখ্যা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর বা জেলা শিক্ষা অফিসের কাছে- পাওয়া যায়নি।
বা হয়তো তাঁরা দেবেনও না।
মবের শিকার হওয়া শিক্ষকদের সংগঠন ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’-এর তথ্য মতে, ৫ আগস্টের পর মব-সন্ত্রাসের শিক্ষার হয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক।
এই সংখ্যাটা ধরে নিতে হবে আরো বেশি।
জানা গিয়েছে, মবের শিকার এখনো প্রায় ২ হাজার ১০০ শিক্ষকের বেতন চালু হলেও অনেকেই স্কুলে যেতে পারছেন না।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে স্কুলে ফিরেছেন প্রায় ২০০ শিক্ষক, তাঁদের বেতন চালু হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ৭০০ শিক্ষকের বেতন বন্ধ, সব ধরনের দপ্তরে ঘুরেও যোগদান করতে পারছেন না তাঁরা। তাঁদের অনেককে স্কুলে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
ইউনূস প্রতিটা খাত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছেন। এবং এটাও অস্বীকার করলে চলবে না যে ইউনূসের সেই পরিকল্পনাকে এখন বাকী পথ টেনে নিচ্ছে বিএনপি সরকার।
আর এখনো আইনের কোন বালাই না থাকায় নাহিদ ইসলাম,হাসনাত আব্দুল্লাহ,নুসরাত তাবাসসুম এর মতো আরও অসংখ্য মবন্বয়ক খোলাখুলি ঘুরে বেড়াচ্ছে।হাসনাত,নাহিদ পৌঁছে গেছেন সংসদে।
