মানিকগঞ্জ: দেখো হে জননী, চেয়ে দেখো—
তোমার সন্তান আজ নিথর।
হে শহীদ মিনার, তুমি ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া শহীদদের স্মৃতি বয়ে চলেছ। আজ তোমার বুকেই আরেকটি তরুণ প্রাণের নির্মম পরিণতি। তুমি সাক্ষী হয়ে থাকো……..! সাক্ষী হয়ে থেকো হে বাংলাদেশ! আজ আর চোখের পানিও ঝরে না, কাঁদতে কাঁদতে সব শুকিয়ে গেছে মা গো!
প্রতিদিন অগুণতি লাশ দেখতে দেখতে ক্লান্ত চোখ ক্লান্ত হতেও ভুলে গেছে।
আমাদের অনুভূতিরা অনুভূতিহীন এক জড় পদার্থ যেনো – কোন শোক নাই, কোন দ্রোহ নাই, কোন বিবমিষা নাই। এমনকি ঘেন্না করতেও ঘেন্না লাগে আজকাল!
শহীদ মিনারে ঝুলছে এক কিশোরের লাশ। তাকিয়ে দেখছে রাষ্ট্র! কিছু বলে না, কিছু করে না! কোনো বিচার নেই, আচার নেই!
শহীদ মিনারে ঝুলন্ত বাংলাদেশ, এ যেন একাত্তর! বাঙালি মেরে ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে রাজাকারের বাচ্চারা।
কিশোর ছাত্রলীগ কর্মী শিহাবকে হত্যার পর শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে রেখেছে জামাত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা।
অর্থাৎ তারা এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে দেশটা পাকিস্তান হবে, এবং বাঙালিদের এভাবেই মেরে ফেলা হবে। যতোই তোমরা শহীদ মিনার বানাও- এভাবেই মারবো! এটাই তো বার্তা দিয়েছে!
তারপরেও কী এই সরকার মুখ খুলবে না? মানুষ অস্থির হচ্ছে। যে কোনো সময় মানুষ ব্লাস্ট হতে পারে! বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
শহীদ মিনারে শুধু একটা লাশ না, পুরো দেশের গলায় দড়ি পড়েছে! আত্মা ধরে টান দিয়েছে পাকিস্তানি, দেশদ্রোহী, শয়তানের বাচ্চারা। এখন ঝুলছে শহীদ মিনারে!

আওয়ামী লীগ অনেক ভুল করেছে। সেই ভুলের খেসারত দিচ্ছে আজ এই মানুষগুলো।
বিষদাঁত সবসময় উপড়ে ফেলতে হয়, শেখ হাসিনা করেননি। করেননি বলেই কওমী জননী নাম পড়েছে।
অতীতের সহনশীল রাজনীতির কারণেই ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগের এমন পরিণতি।
৫ আগষ্টের পরে ফাঁসির আসামির বিরুদ্ধেও মামলা নাই হয়ে গেছে।
৫ আগষ্টের পরে ওরা কখনও ঝুলিয়ে মারছে, কখনও ভাত খাইয়ে, এভাবে কত শত মানুষকে হত্যা করেছে কিন্তু বিচার কই?
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এভাবেই সারাজীবন নির্যাতিত হয়েছে, হবেও।
যে ছেলেটিকে শহীদ মিনারে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তার নাম শিহাব হোসেন।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর মেঘশিমুল এলাকায় একটি শহীদ মিনার থেকে শিহাব হোসেন (১৫) এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই দৃশ্য দেখে সারা দেশে আতঙ্ক ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে জাগীর ব্রিজের পাশে অবস্থিত শহীদ মিনারে স্থানীয়রা শিহাবের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত শিহাব হোসেন জাগীর ইউনিয়নের মো. সেলিম হোসেনের ছেলে। সে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মাছের দোকানে কাজ করত।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে শিহাব রাতে এক বন্ধুর বাড়িতে অবস্থান করছিল। শনিবার রাতে খাবার খাওয়ার পর সে আবারও বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, সে আগের মতোই বন্ধুর বাড়িতে রয়েছে।
কিন্তু নাহ! তাকে মেরে ফেলা হয়েছে গো মা!
শিহাবের পরিবারের অভিযোগ, শিহাবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল বই, মনে থাকার কথা ছিল স্বপ্ন, আর চোখে থাকার কথা ছিল সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষা, আজ সেই বয়সেই তাকে দাঁড়াতে হলো মৃত্যুর মঞ্চে। তার অপরাধ? সে একজন ছাত্রলীগের কর্মী, শুধু একটি রাজনৈতিক পরিচয়।
