নোয়াখালী: মাগুরায় কোটি টাকার ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নোয়াখালীর চাটখিলে ঘটলো ভৌতিক কাণ্ড!
একটি সাধারণ আবাসিক পরিবারে এক মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ভাবুন! নেশা করে ওরা যারা বিল বানায়? নাকি ঘাড় চেপে ধরে কেউ এইরকম বিল বানানোর জন্য?
৮টি এনার্জি বাল্ব, ২টি ফ্যান, ১টি ফ্রিজ ও ১টি আইপিএস চালিয়ে যেখানে মাসে গড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকার মতো খরচ হতো, সেখানে হঠাৎ এমন আগুনঝরা বিল আসায় হতবাক এবং অবশ্যই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ।
এমন কাণ্ডটা ঘটেছে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বড় তফদার বাড়িতে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নথি অনুযায়ী, মিটারটি ওই বাড়ির প্রয়াত আবু তাহেরের নামে নিবন্ধিত। বর্তমানে মিটারটি ব্যবহার করছেন তাঁর নাতি শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি।
গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের কপি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের ওই বিলে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ মোট টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা।
ভুক্তভোগী শহীদুল ইসলাম এই নিয়ে জানান, বিগত ৫ মাস ধরে তাঁদের পরিবারে মাসে গড়ে মাত্র ১৮৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে। অথচ সেপ্টেম্বর মাসের বিলে হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে একলাফে ৬ হাজার ইউনিট ব্যবহার দেখানো হয়েছে।
৬ হাজার ইউনিট কি একমাসে খরচ হয়?
ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছি। চলতি মাসে বিল হাতে পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেছি। সাধারণ লাইট-ফ্যান চালিয়ে কীভাবে লাখ টাকার বেশি বিল আসে? বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতকারকদের চরম গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এ ধরনের ভৌতিক বিলের বোঝা সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিল বিতরণকারী কর্মীকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি চাটখিল কার্যালয়ে গিয়ে বিল সংশোধন করার পরামর্শ দেন।
এতে আরো ক্ষেপে শহীদুল বলেন, ‘কর্মকর্তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুল করবেন, আর সাধারণ মানুষ তা ঠিক করতে তাঁদের দরজায় দরজায় ঘুরবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
জানা যায় , সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতেই গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে সংশোধিত বিলের কপি পৌঁছে দেন বিদ্যুৎ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দেখা যায় হাজার টাকা বিল এসেছে। সংশোধিত হিসাবে ওই মাসের বিল দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৮ টাকা।
