ঢাকা: আসলে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য কোথায়? শুধু গণতন্ত্র গণতন্ত্র, স্বাধীনতা বললেই তো হয় না!

গণতন্ত্র নিয়ে একটা সুন্দর আলোচনাই করলেন তসলিমা নাসরিন।

ফেসবুকে তিনি লেখেন, “গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো ক্ষমতায় বসে আপনি আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কী আচরণ করেন।

যে দল ক্ষমতায় নেই, দুর্বল, বিপর্যস্ত বা জনসমর্থন হারিয়েছে—তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ করা খুব সহজ। কিন্তু গণতন্ত্রের সৌন্দর্য সেখানে নয়। সৌন্দর্য হলো আইনের শাসনে”।

তসলিমা নিরপেক্ষভাবেই কথাগুলো বলেন আওয়ামী লীগ নিয়ে।

তিনি লিখেছেন, “আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, দুর্নীতি বা অন্য যে অভিযোগই থাকুক না কেন, সেগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত, প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা উচিত, এবং দায়ীদের বিচার হওয়া উচিত।

কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলকে সামগ্রিকভাবে নির্মূল করার চেষ্টা, তার সমর্থকদের শত্রু হিসেবে দেখা, বা রাজনৈতিক প্রতিশোধের পরিবেশ তৈরি করা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না; বরং দুর্বল করে।

বাংলাদেশের ইতিহাস দেখিয়েছে যে প্রতিশোধের রাজনীতি কখনও স্থায়ী সমাধান দেয় না। এক সরকার অন্য দলকে দমন করে, পরে ক্ষমতার পালাবদলে একই কৌশল তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। ফলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না, শুধু প্রতিহিংসার চক্র দীর্ঘায়িত হয়।

যদি কেউ বিশ্বাস করেন যে আওয়ামী লীগ অপরাধ করেছে, তাহলে তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হওয়া উচিত আদালত, প্রমাণ এবং স্বচ্ছ বিচার। কারণ বিচারহীন প্রতিশোধ ন্যায়বিচার নয়। আর কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি মানুষের সমর্থন আছে কি নেই, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভোটারদের নেওয়ার কথা—বন্দুকধারীদের নয়, উচ্ছৃঙ্খল জনতারও নয়।

গণতন্ত্রের মূল কথা হলো: মানুষকে ভোট দিতে দাও, আদালতকে বিচার করতে দাও, এবং রাষ্ট্রকে সকল নাগরিকের প্রতি সমান আচরণ করতে বাধ্য করো”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *