চট্টগ্রাম: বীরত্ব, শক্তি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক হচ্ছে ‘জব্বারের বলিখেলা’। এটা শুধু খেলা না, জনমানুষের আবেগ।

শতাধিক বছরের ইতিহাস বুকে ধারণ করে আজও চট্টগ্রামের মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে এই আয়োজন।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর এই বলিখেলার সূচনা করেন। সে সময় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালিদের মধ্যে সাহস ও শারীরিক সক্ষমতা জাগিয়ে তুলতেই তিনি এমন উদ্যোগ নেন।

১২ বৈশাখ, ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দান-এ প্রথমবারের মতো এই কুস্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়ভাবে এটি ‘বলিখেলা’ নামে পরিচিতি পায়, যা পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠাতার নাম অনুসারে ‘জব্বারের বলিখেলা’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

চট্টগ্রামে আগামি ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে জব্বারের বলিখেলা ও জমজমাট বৈশাখী মেলা। চট্টগ্রামের এই মেলাটার জন্যই তো সারা বছর ধরে সবাই অপেক্ষা করে বসে থাকে।

মূল মেলা ২৪ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল। তবে এই সময়ের আগে ও পরে সব মিলিয়ে প্রায় ১ সপ্তাহ এই মেলা থাকে।

বলীখেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি ময়দান ও আশপাশের এলাকায় বসে জমজমাট বৈশাখী মেলা। ছোটবড় সবাই আসে, সবাই কেনে এমন নয়। দেখতেও আসে।

প্রায় তিন চার কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই মেলায় পাওয়া যায় গৃহস্থালির সামগ্রী থেকে শুরু করে হস্তশিল্প, শীতলপাটি, আসবাবপত্র, মাটির জিনিসপত্র, গজা-মোয়া সহ নানা পণ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে অংশ নেন।

শুধু খেলা নয়, এই মেলাকে ঘিরে তৈরি হয় এক অন্যরকম সাংস্কৃতিক আবহ। বলা যায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্য জব্বারের বলীখেলা।

ঐতিহ্যবাহী মরহুম আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা (বলিখেলা) ও বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) নিরাপত্তা সমন্বয়ের জন্য প্রস্তুতি সভা করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সিএমপি হেডকোয়ার্টারের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে করতে সিএমপি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।

সভায় বলিখেলা ও বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় ব্যবস্থাপনা, জরুরি সেবার প্রস্তুতি এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *