ফরিদপুর: বাংলাদেশ আজ এক চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার সংকটে দাঁড়িয়ে। চারদিকে কেবল লাশের গন্ধ, আর সাধারণ মানুষের নীরব আর্তনাদ।

প্রতিদিন রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে দেশের মাটি, লাশের দেশ হয়ে গেছে! ঘরে-বাইরে কোথাও মানুষের জীবনের কোনো ন্যূনতম নিশ্চয়তা নেই। একটা দেশ যদি এই অবস্থায় চলে আসে ভাবতে পারেন এই সরকারের কাজটা কী? কোন অধিকারে এরা এখনো ক্ষমতায় বসে আছে?

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কঙ্কালসার রূপটি উন্মোচিত করছে। আর কত তারেক রহমান সাহেব?

আজ কোনো সাধারণ নাগরিক নিরাপদ নয়—না নিজের ঘরে, না রাজপথে।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ ও দিশেহারা। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির কারণেই অপরাধীরা প্রতিদিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ফরিদপুরের ঘটনায় গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে। মধুখালীতে ধানক্ষেতের পাশ থেকে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের ছয় টুকরো করা পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ।

শনিবার দুপুরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে ফরিদপুরগামী সড়কের ডান পাশে লাভলু মল্লিক ও ইসহাক মিয়ার ধানক্ষেতের পাশে একটি তালগাছের গোড়ায় শনিবার দুপুরে মুখ বাঁধা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান স্থানীয় পথচারীরা। আর বস্তাগুলো থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।

তাতে তাদের সন্দেহ হয়। এই বিষয়টি জানিয়ে তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন।

খবর পেয়ে মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান এবং মধুখালী থানার এসআই মাসুদুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয়দের সামনেই বস্তা তিনটির মুখ খোলা হয়। যা দেখা গেলো কার্যত যারা ছিলেন সেখানে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

ভেতর থেকে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী একজন অজ্ঞাতনামা পুরুষের মরদেহের ছয়টি অংশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলেই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

খুন ছাড়া আর কী? এটাকেও কী আত্মহত্যা বলে চালাবে তারেকের পুলিশ?

ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত না হলে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইসব প্রতিদিন ঘটছে। জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে—নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এই অপশাসনের জবাব জনগণকে দিতেই হবে!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *