ঢাকা: হিন্দু বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার প্রস্তুতি।
ধন-সম্পদ, সুখ-সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্য লাভের আশায় প্রতি বছর শরৎকালের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। আজ সেই দিন।
আজ কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা—মা লক্ষ্মীর কৃপা লাভের পবিত্র রজনী!! সনাতনীরা এভাবেই বিশ্বাস করেন।
কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করে প্রশ্ন করেন—“কো জাগর্তি??” অর্থাৎ, “কে জেগে আছো??” এই বিশ্বাস থেকেই রাত জেগে দেবীর আরাধনার প্রচলন।
এছাড়াও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ও আজ।
প্রার্থনা, পূজা-অর্চনা ও নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করবে দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষেরা।
ইতিমধ্যে আয়োজন শুরু হয়ে গিয়েছে। আল্পনা আঁকার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে খুঁটিনাটি সমস্ত নিয়ম কানুন।
বৌদ্ধবিহারে ধর্মীয় আলোচনা, বুদ্ধপূজা, প্রার্থনা ও মানবকল্যাণে রঙিন কাগজের তৈরি ফানুস ওড়াবেন বৌদ্ধ ধর্ম্বালম্বীরা।
লক্ষ্মী পাঁচালী পাঠ করা হয় লক্ষ্মীপূজার দিন। সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দুর্বা, তুলসীপাতা, হরিতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, আতপ চালের নৈবেদ্য দিয়ে আয়োজন করা হয় লক্ষ্মী পূজার। মঙ্গলঘট, ধানের ছড়ার সঙ্গে পুরো ঘরে চালের গুঁড়া ও খড়িমাটি দিয়ে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ দিয়ে আলপনা আঁকা হয়।
লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে সনাতন ধর্মের লোকেরা ঘর দুয়ার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখেন। বিশ্বাস করা হয়, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা লক্ষ্মীপূজার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
সেখানেই লক্ষ্মী যেখানে পরিষ্কার, যেখানে শৃঙ্খলা।
