ঢাকা: আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন। আর আষাঢ়ের প্রথম দিন মানেই প্রকৃতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

আষাঢ় বলতেই মনের মধ্যে উঁকি দেয় ঘন কালো মেঘ, বর্ষার পানি, কদম।

কালো মেঘের আনাগোনা, হঠাৎ ঝরে পড়া বৃষ্টি, ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ আর সবুজের সতেজতায় চারপাশ যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় এই মাসে।

ব্যস্ত জীবনের শত ক্লান্তির মাঝেও বর্ষার এই প্রথম স্পর্শ মনকে নিয়ে যায় অন্য এক অনুভূতির জগতে।

মনে পড়ে শৈশবের কথা। শৈশবে পানিতে কাগজের নৌকা ভাসানো, কখনো জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখা। অনেক কথাই ভেসে আসে মনে।

প্রকৃতি যেন নীরবে বলে যায়, জীবনের সব শুষ্কতা একদিন না একদিন বৃষ্টিতে ধুয়ে যাবে। আসলে যারা প্রকৃতিকে অনুভব করতে পারেন তারা বুঝবেন, প্রকৃতি অনেক গভীর বার্তা দিয়ে যায় মানুষের মনে, জীবনে।

আষাঢ় শুধু একটি মাসের নাম নয়, এটি অনুভূতির নাম; অপেক্ষার নাম; মুগ্ধতার নাম। বর্ষার প্রথম দিনে সবার জীবনে নেমে আসুক প্রশান্তি, ভালোবাসা আর নতুন আশার বার্তা।

বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর সমাজে আষাঢ়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সময় আমন ধানের চারা রোপণের প্রস্তুতি শুরু হয়। বৃষ্টির পানি জমিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনে। কৃষকের কাছে আষাঢ় মানে নতুন ফসলের স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনার হাতছানি।

বাংলা সাহিত্য আষাঢ়কে ঘিরেই সমৃদ্ধ। কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীদের কত লেখা, গান এই আষাঢ়, বর্ষা নিয়ে। যুগে যুগে বর্ষার রূপকে নানা মাত্রায় তুলে ধরেছেন তাঁরা।

বাংলা সাহিত্যে প্রেমের সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।

বৃষ্টিস্নাত বাংলার বুক জুড়ে আজ আবার সেই প্রেম, এবং একইসাথে স্মৃতিমেদুর বর্ষা ফিরে এসেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *