ঢাকা: ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ কর্মসূচি ও অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হবে। এই বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’।

হেপাটাইটিস হলো লিভারের প্রদাহজনিত রোগ, যা মূলত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়।

ভাইরাল হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ধরন থাকলেও হেপাটাইটিস বি এবং সি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ।

এর চিকিৎসা না হলে সংক্রমণ লিভার সিরোসিস, লিভার বিকল হওয়া এবং লিভার ক্যানসারের মতো জটিল ও প্রাণঘাতী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

হেপাটাইটিস অত্যন্ত উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাল হেপাটাইটিস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ। প্রতি বছর এই রোগে আনুমানিক ১৩ লাখ মানুষ মারা যায়।

ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ৯৫ শতাংশের জন্য দায়ী হেপাটাইটিস ‘বি’ ও হেপাটাইটিস ‘সি’।

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার মানুষ নতুন করে এই দুই ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ভালো নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস ‘সি’ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের অন্যতম।

সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সক্রিয় হেপাটাইটিস ‘সি’ সংক্রমণের হার প্রায় ০.৬ শতাংশ হলেও উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী, ইনজেকশন গ্রহণ করা মাদকাসক্ত ব্যক্তি, রক্ত গ্রহণে নির্ভরশীল রোগী এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে এর সংক্রমণ অনেক বেশি।

এছাড়াও ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী হেপাটাইটিস ‘বি’-তে মৃত্যুর ৬৯ শতাংশ যে ১০টি দেশে সংঘটিত হয়েছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হেপাটাইটিস বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা।

প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন।

অথচ সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তারেক রহমান জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা-সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে।

একই সঙ্গে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *