চট্টগ্রাম: আমরা কি খাচ্ছি………? এইযে এত মানুষ কাড়িকাড়ি টাকা দিয়ে রেস্তোরাঁয় খেতে যান, নিশ্চয়ই তাঁরা এটা মনে করেই খান যে, খাবারটা ভালো। অথচ টাকা লুটে নিয়ে আমাদের কী খাওয়াচ্ছে রেস্তোরাঁ?

খুব অবাক লাগে দেশটার কথা ভাবলে! যত পচা, বাসি মাংস আছে ওগুলোকে সুন্দর করে রংচং করে স্বাদ করে খাওয়ানো হচ্ছে। আমরা মনে করছি, আহা কী স্বাদ?

সীতাকুণ্ডে রাজবাড়ী রেস্তোরাঁ ও আল আমিন রেস্তোরাঁয় মোবাইল কোর্ট অভিযানে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। এই ঘটনা শুধু দুটি নয়, সারা বাংলাদেশের! জরিমানা করলেও এরা আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে, আবারো পচা খাওয়ায়! সরকার যদি শক্ত না হয়, জরিমানা করে করেই ছেড়ে দেবে!

সেখানে অভিযানে উঠে আসে ভয়ংকরচিত্র। ফ্রিজারিয়ান করা বাসি মুরগির মাংস খাওয়াচ্ছে মানুষকে। আর পচা খাওয়ালেও জনগণ টের পায় না, কারণ ঐ সেন্ট তখন থাকে না। বিভিন্ন মশলা, সস দিলে স্বাদ এমনি পাল্টে যায়।

জানা যায়, সীতাকুণ্ডে আল আমিন রেস্তোরাঁ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত এবং পচা-নষ্ট খাবার সংরক্ষণ করে বিক্রি করছিল।

একইভাবে রাজবাড়ী রেস্তোরাঁতেও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে পচা ও নষ্ট খাবার সংরক্ষণ এবং বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সুনামের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছে এরা পচা-বাসি খাবার। অবশেষে ভ্রাম্যমান আদালতে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর চিত্র।

অভিযানে রেস্তোরাঁর ফ্রিজ পাওয়া যায় পচা ও বাসি মাংস। এসব মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করে চড়া মূল্যে খাওয়ানো হতো সাধারণ ক্রেতাদেরকে।

‎সোমবার (৩ আগষ্ট) দুপুরে সীতাকুণ্ড পৌর সদরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম।

এসময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় দুই রেস্তোরাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আল আমিন হোটেল এন্ড রেস্তোরাঁকে কাঁচা ও রান্না করা বাসী খাবার একসাথে রেখে পরিবেশনের অপরাধে ২০ হাজার টাকা এবং অবিক্রীত গ্রীল বিক্রির উদ্দেশ্য ফ্রিজে সংরক্ষণ, দীর্ঘ দিনের মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ এবং রান্নাঘর নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অপরাধে রাজবাড়ী রেস্তোরাঁকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পচা বাসি ও নষ্ট খাবারগুলো ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্ত ও সীতাকুণ্ড থানার পুলিশের একটি টিম।

‎সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

এভাবে কি সুরক্ষা পাওয়া যায়? দেশের শিরায় শিরায় দুর্নীতি, লোভ ঢুকে গেছে। সেখানে জরিমানায় কিচ্ছু হবে না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *