ফরিদপুর: এই হচ্ছে তাদের শান্তির ঈদ পালন! ফরিদপুরে ঘটলো এমনই এক বিশৃঙ্খল এবং লজ্জাজনক ঘটনা।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পবিত্র ঈদুল আজহার মাংস মসজিদে ভাগ হবে নাকি যার যার বাড়িতে ভাগ হবে— এই নিয়ে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। আর এই দ্বন্দ্বে ঈদের নামাজ পর্যন্ত আদায় করেনি ওই গ্রামের বাসিন্দারা। পরে তারাও সংঘর্ষে জড়ায়।
কী অদ্ভুত! কোথায় নিজেদের শান্তি বজায় রাখবে, কোরবানি মানে তো ত্যাগ- আর এরা অসভ্যের মতো মাংস নিয়ে হাতাহাতি শুরু করে।
এই ঘটনায় ঈদের দিন দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এবং সংঘর্ষ চলাল সময় চার-পাঁচটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দারা মোল্লা ও মাতুব্বর— দুই ভাগে বিভক্ত।
মোল্লা পক্ষের নেতৃত্ব দেন কামরুজ্জামান মোল্লা এবং মাতুব্বর পক্ষের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর। সেখানে কোরবানির তিনটি ভাগের যে অংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করা হয়, সেই অংশ গ্রামের সব মাংস এক জায়গায় করে বিতরণ করা হয়ে থাকে।
এবার সেই মাংস মসজিদ থেকে বিতরণ করা হবে নাকি যার যার বাড়ি থেকে বিতরণ করা হবে, এ নিয়ে ঈদের নামাজের শুরুতেই কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
এ নিয়ে গ্রামের ‘মোল্লা পক্ষ’ ও ‘মাতুব্বর পক্ষ’-এর মধ্যে কথা-কাটাকাটি তারপর পরিস্থিতি গরম হতে থাকে।
দুই পক্ষের লোকজনই ঈদের নামাজ পড়া বাদ দিয়ে রামদা, ছ্যানদা, ঢাল-সরকি ও ইট-পাটকেলসহ নানা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
