ঢাকা: বাংলাদেশের ভালো মন্দে বরাবর কলম ধরেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন। যদিও তিনি নির্বাসিত তারপরেও নিজের জন্ম হওয়া দেশকে তো আর ভুলতে পারেন না।
তাই এই বাঙালি লেখক কলম ধরেন দেশের স্বার্থে এবং বুঝিয়ে বলেন কীভাবে কোন কাজটা করলে দেশের সত্যিকারের সংস্কার হবে!
এবার তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন:
“বাংলাদেশকে যদি সত্যিকার অর্থে একটি আধুনিক, মানবিক ও সভ্য রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে এখন থেকেই কিছু মৌলিক সংস্কার জরুরি। সেই সংস্কারের অন্যতম হলো ধর্মভিত্তিক পারিবারিক আইন বাতিল করা।
বিবাহ, তালাক, সন্তানের অভিভাবকত্ব, উত্তরাধিকার—এসব আইন কোনও ধর্মের ভিত্তিতে নয়, সমানাধিকার ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রের আইন নাগরিকের ধর্ম দেখে আলাদা হতে পারে না; আইন হতে হবে সবার জন্য সমান।
ধর্মীয় পারিবারিক আইনগুলোর অধিকাংশই যুগের পর যুগ ধরে নারীর প্রতি বৈষম্য ও পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যকে টিকিয়ে রেখেছে।
নারীর স্বাধীনতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, ব্যক্তিসত্তা—সবকিছুকেই সেখানে গৌণ করে দেখা হয়। যে আইন নারীর মর্যাদাকে খর্ব করে, তাকে সভ্যতার আইন বলা যায় না। নারীবিদ্বেষ আর সভ্যতা কখনও পাশাপাশি চলতে পারে না।
বিশেষ করে বহুবিবাহের মতো বৈষম্যমূলক প্রথা সমাজে নারীকে পূর্ণ মানুষ নয়, বরং পুরুষের ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার মানসিকতাকে শক্তিশালী করে।
এর ফলে নারীরা প্রতিনিয়ত অসম্মান, অনিরাপত্তা ও মানসিক অবমূল্যায়নের শিকার হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই বৈষম্যের মধ্যে বেঁচে থাকতে থাকতে অনেক নারী নিজের প্রতিও সম্মান হারিয়ে ফেলে, আত্মবিশ্বাস হারায়, নিজের অধিকার দাবি করার সাহস হারায়।
একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় তার অট্টালিকা বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নয়; পরিচয় তার মানবিকতায়, সমতায়, এবং নারীকে কতখানি মর্যাদা দেওয়া হয় তাতে।
তাই বাংলাদেশকে যদি সত্যিই সভ্য, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে ধর্মভিত্তিক বৈষম্যমূলক আইন পরিত্যাগ করে সমানাধিকারের ভিত্তিতে একটি অভিন্ন নাগরিক আইন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি”।
