যশোর: অ্যাম্বুলেন্সের তীব্র সাইরেনের সঙ্গে চলছিল একজন গর্ভবতী মায়ের জীবনের লড়াই।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি তরুণী বৃষ্টি খাতুন (১৯) তীব্র প্রসববেদনায় ছটফট করছিলেন, তখন তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে ফুটফুটে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। যশোরের চুরামনকাটি এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালে মায়ের প্রসববেদনা তীব্রতর হয়। এবং তিনি সন্তানের জননী হন।
পৃথিবীতে এলো একটি ফুল, আগামি প্রজন্ম। ফোটালো মায়ের মুখে হাসি।
ছোট্ট নবজাতক ও নতুন মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে ফুল আর মিষ্টি দিয়ে নতুন জীবনকে বরণ করে নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের স্বাগতম জানানো হয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে যশোরের চুরামনকাটি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুইজনেই সুস্থ রয়েছেন।
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই নারী।
কারা সূত্র জানিয়েছে, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে ভ্যানচালক জসিম উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ১৯ বছর বয়সী বৃষ্টি খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছিল।
নিহত ব্যক্তির বাবা মোক্তার হোসেন হরিণাকুণ্ডু থানায় এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
বৃষ্টির বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি এলাকায় রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি সন্তান প্রসব করেন।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে মা ও নবজাতকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন; বর্তমানে তারা উভয়েই সুস্থ আছেন।
মা ও শিশুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। তিনি আরও জানান, কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায় এসব ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
নবজাতকের জন্য জামাকাপড়, মশারি, বিছানাপত্র, তোয়ালে, ন্যাপকিন, ডায়পার, অলিভ অয়েলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলো দেয়া হয় ।
