চট্টগ্রাম: কক্সবাজারের বরেণ্য কবি এবং সাহিত্য সম্পাদনা মূল্যায়ন সম্পাদক কবি অমিত চৌধুরী আমাদের মাঝে আর নেই…।
তিনি চট্টগ্রাম আসার পথে হারিয়ে গিয়েছিলেন কদিন আগে। কিন্তু এবার সত্যিই হারালেন এই পৃথিবী থেকে। তাঁর সাহিত্যাঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে চিরতরে!
চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সন্ধ্যায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে কবি অমিত চৌধুরীর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৫২ সালের ১৪ এপ্রিল কক্সবাজার শহরে জন্মগ্রহণ করেন অমিত চৌধুরী। তাঁর প্রকৃত নাম সতীন্দ্রনাথ দে। বন্ধু মহলে তিনি ‘সন্তোষ’ নামে পরিচিত থাকলেও সাহিত্যজগতে অমিত চৌধুরী নামেই পরিচিতি পান।
তাঁর বাবা রমেশ চন্দ্র দে’র আদি নিবাস সীতাকুণ্ড। ১৯৪৩ সালের শুরুতে তিনি কক্সবাজারে চলে আসেন।
অমিত চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চট্টগ্রাম শিক্ষা কলেজে অধ্যয়নরত ছিলেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কক্সবাজার দখলে নিলে পরিবারের সঙ্গে তিনি বার্মার আরাকানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ফিরে এসে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চায় যুক্ত হন।
১৯৭৩ সালে তিনি সম্পাদনা করেন ‘বৈজয়ন্তী’। ১৯৭৬ সাল থেকে সম্পাদনা করে আসছিলেন ‘মূল্যায়ন’ সাহিত্যপত্রিকা।
কবিতা, ছড়া, লিরিক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ‘চোখে রেখেছি তোমার চোখে’, ‘শিপ্রা যমুনার ধারা’, ‘জুই নয় পৃথ্বী’, ‘রাজা আসছে রাজা কার’, ‘ঘাতক কসাই মহিমাকে ফেরত চাই’, ‘মরণ বাংলাদেশটায়’ ও ‘ধোঁকাবাজ ধোঁকারাজ’ উল্লেখযোগ্য।
তাঁর মুত্যুতে কক্সবাজার- চট্টগ্রামে সাহিত্যাঙ্গনের সতীর্থ ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
