খুলনা: সীমাহীন লোডশেডিং চলছে বাংলাদেশে। লোডশেডিং শুধু একটা বিরক্তির বিষয় না, এটা দেশের অর্থনীতির জন্যও একটা সতর্ক সংকেত।

দেশের অর্থনীতি এমনিতেই ঝুঁকিতে পড়েছে। দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকলে কারখানা বন্ধ থাকে, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারে না—একটা দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে যায়।

জনগণের দুর্ভোগ শুরু হয়ে গেছে।

দায়িত্বশীল পরিকল্পনা, সঠিক ব্যবস্থাপনা, আর জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। আর তা নাহলে বহু সমস্যায় পড়তে হবে আগামিতে।

দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আগে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে—এই বিদ্যুৎই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।

এমন তো যে ৮/১০ ঘন্টার কাজ এক ঘণ্টায় করে ফেলা যাবে।

জনগণের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।একদিকে গরম বাড়ছে, আরেকদিকে লোডশেডিং।

প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং কখনো দিনে, কখনো গভীর রাতে।

কৃষকরাও চরম বিপদে সেচের অভাবে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে, ঘাম ঝরানো পরিশ্রম হারিয়ে যাচ্ছে।

সামনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লোডশেডিং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় খুলনা অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬টি বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে, ফলে শহর, গ্রামে সবজায়গায় বাড়ছে লোডশেডিং। চারদিক অন্ধকার।‌এই সুযোগে সামাজিক অপকর্ম বাড়ছে। সবদিকে জনগণের সমস্যা।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট।

তবে জ্বালানি সংকটের জন্য খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট, মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট এবং রূপসা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রসহ মোট ৬টি কেন্দ্র বন্ধ।

ফলে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা এনএলডিসি থেকে বিদ্যুতের চাহিদা পাচ্ছি না। আমাদের হাতে কোনো জ্বালানি নেই। জ্বালানি পাওয়া সাপেক্ষে আমরা কেন্দ্রটি চালাতে প্রস্তুত আছি।

এদিকে, বিদেশি ঋণে নির্মিত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বর্তমানে চালু আছে যদিও তা পুরো অঞ্চলের বিশাল মাপের চাহিদা মেটাতে পারছে না।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো নীতিগত পরিবর্তন না আনলে জ্বালানি নির্ভরতা আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আরো বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *