ঢাকা: এবার বৈশাখী মেলা জমেনি তেমন। একে তো বাঙালির এই সংস্কৃতি নিয়ে রাজনীতিকরণ চলছে। মৌলবাদীদের থাবায় পড়েও কোনোরকমে পালন হয়েছে বৈশাখ। তার উপর আছে যুদ্ধের প্রভাব। টাকা পয়সার অভাব মানুষের।

নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মল ও বিপণিবিতানে বৈশাখী পোশাকের সমারোহ তো ছিলোই। কিন্তু ক্রেতা উপস্থিতি খুব একটা নেই।

বাংলা বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে বড় উৎসব বর্ষবরণের দিন পয়লা বৈশাখ। এই উৎসব ঘিরে প্রতিবারের মতো এবারও দেশীয় পোশাকের দোকানগুলো নতুন পসরায় সেজে উঠেছে।

কিন্তু আশানুরূপ ক্রেতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশাখী বাজারে ক্রেতার সমাগম কমেছে। এবারও এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না।

তাছাড়া পয়লায় বৈশাখটাই আর থাকবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার আমরা আশা করেছিলাম, চিত্রটা একটু হলেও বদলাবে। কিন্তু না।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কয়েক দশক ধরে দেশে নতুন পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, ভ্রমণসহ নানা খাতে সংগঠিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম হয়ে আসছে। এটি দিনে দিনে আকারে অনেক বেড়েছে। মিডিয়ায় এই আর্থিক কর্মকাণ্ডের একটি নাম দেওয়া হয়েছে—বৈশাখের অর্থনীতি। অর্থনীতি তো অবশ্যই চাঙ্গা হয়ে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বাজার খুব মন্দা। এবার পয়লা বৈশাখ পড়েছে ঈদের কয়েক সপ্তাহ পরে। কিন্তু ভালো ব্যবসা করার আশা পূরণ হয়নি ব্যবসায়ীদের।

রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান ও দেশীয় ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা গেছে, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে লাল-সাদা থিমের শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কুর্তি, শিশুদের পোশাকসহ নানা ধরনের কালেকশন আনা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতার উপস্থিতি নিতান্তই কম।

বসুন্ধরা সিটি বিপণিবিতানের রঙ বাংলাদেশ আউটলেটের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মাসুদ রানা বললেন, ‘এমনিতে বৈশাখের আগে এ সময় আমরা দম ফেলার ফুরসত পাই না। অথচ এবার কাস্টমার নাই। যুদ্ধ বা হাম পরিস্থিতির কারণে এমন হতে পারে। তা ছাড়া ৭টার মধ্যে শোরুম বন্ধের সময়সীমাও একটা বড় কারণ।’

তাছাড়া জিনিসপত্রের দাম যেহারে বাড়ছে, মানুষ পোশাক কিনবে নাকি তেল নুন কিনবে!

জীবনযাত্রায় ব্যয় বাড়ার কারণে অনেকে পহেলা বৈশাখ ঘিরে কেনাকাটা কম করছেন। অনেকে আবার কেনাকাটা মোটেও করেননি।

জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমেছে। তাই বৈশাখী বাণিজ্যে যে সুবাতাস প্রত্যাশা করা হয়েছে ঠিক সেভাবে হয়নি।

তবে কম হলেও বৈশাখী বাণিজ্য হয়েছে। অনেকে ব্যাংক থেকে অর্থ তুলেছেন। অনেকে বৈশাখী ভাতা পেয়েছেন। এসবই অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *