ঢাকা: ক্ষমতায় গিয়ে ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল করেছেন নোবেলজয়ী তথা সাচ্চা মুসলমান সাজা ইউনূস। যাকে সাচ্চা মুসলমানরা মাথায় তুলে নাচছিলো! আজ তাঁরা কোথায়?

১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনের মাত্র তিন দিন আগে ইউনূস সরকার এমন এক চুক্তি করেছে আমেরিকার সাথে, যা বাতিল করা না গেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হবে মারাত্মকভাবে।

আজ কিছুটা ভোগ করছে, ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গটা করবে।

বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে  করদরাজ্যে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। এগুলো ওপেন সিক্রেট।

যেসব রাজনৈতিক দল গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নাম করে একটি নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, তারাও জানে এই দেশবিরোধী চুক্তির কথা। কিন্তু এ নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

জানেন কী বাংলাদেশবাসী, মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশে শূকরের মাংস আমদানি করা যাবে অবাধে? এবং সে পথ করেছেন ইউনূস। এখন কারো ইসলামে আঘাত লাগবে না?

রাজাকাররা নিশ্চয়ই জানে, চুক্তির ফলে মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশে শূকরের মাংস আমদানি করা যাবে। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যেদিন কসাইখানায় অবাধে বেচাকেনা হবে হারাম শূকরের গোশত।

যারা দেশে ইসলাম কায়েম করতে চান, তারাও কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই প্রশ্নে নিশ্চুপ। তারা পড়ে আছেন তথাকথিত গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে। রহস্য কী?

আসলে এই আন্দোলন-হুংকারের উদ্দেশ্য সেই চুক্তিকে আড়াল করা, যা দেশবিরোধী।

জামাত শিবির রাজাকারের গোষ্ঠী সব জানে।

এদিকে, বিএনপি ও জামায়াত যেন সেই চুক্তি অস্বীকার করতে না পারে তার জন্য বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে নিজের মুখে স্বীকার করেছেন,

“বিএনপি ও জামায়াতের সাথে আলোচনা করেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে।”

যে পঙ্গপালেরা দিল্লি না ঢাকা বলে গলার রগ ছিঁড়ে ফেলে, তাদের ধর্ম এখন কী চাঙ্গে উঠেছে? নিজের ধর্মই তো যায় যায় অবস্থা!

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাথে চুক্তি করেছে । কিন্তু কখনোই এমন কোন চুক্তি কেউ করেনি , যা দেশ ও জাতির স্বার্থের পরিপন্থী। কথাটা তো ভুল না।

আসলে ৫ আগষ্ট জঙ্গী অভ্যুত্থান করে ৮ আগষ্ট দেশে পা দিয়েই ইউনূস বুঝে গিয়েছিলেন , যে পরিমাণ উন্নয়ন আওয়ামীলীগ করেছে, যে কাজ করেছে তাতে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে জনগণকে লেলিয়ে দেয়া সহজ হবে না ।

কিংস পার্টি এনসিপি , স্বাধীনতাবিরোধী ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইনকিলাব জিন্দালাশ দল দিয়ে ” দিল্লী না ঢাকা” স্লোগান দিয়েও তিনি সফল হলেন না।

গণভবন , ধানমন্ডি বত্রিশ ভাঙাসহ মাত্র পাঁচ মাসে টমেটো ট্রায়ালের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ফাঁসি দিয়েও তিনি সফল হতে পারলেন না।

দীর্ঘ দুই বছর মব সন্ত্রাস করেও জনগণের হৃদয় থেকে আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনাকে মুছতে পারলেন না।

আর তখন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে করলেন ভয়ঙ্কর দেশ জিম্মি চুক্তি।

এত বড় অপরাধ করেও কিন্তু তাকে পালাতে হয়নি। কারণ তিনি জানেন তৌহিদি নামক জনতা তাঁর সাথে আছে। যারা চুক্তির বিষয়ে সব জানে।

উক্ত ষড়যন্ত্রের চুক্তির বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ দাবি করছেন—এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

কিন্তু যারা ইসলাম গেলো গেলো বলে হাত পা ছোড়াছুড়ি করেন, হিন্দুদের গলা কাটে, তারাই চুপ! কোনো কথা নেই! তাদের ইসলামে এখন আর কোনো আঘাত লাগে না। এখন তো ইউনূসকেই যা করার তা করা উচিৎ, যা করা হয় হিন্দুদের সাথে!

বিশেষ করে চুক্তিতে ব্যবহৃত “meat” ও “meat products” শব্দবন্ধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের একটি অংশের আশঙ্কা, এ ধরনের সাধারণ শব্দের আওতায় ভবিষ্যতে শুকরের মাংস (pork) আমদানির সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে।

মার্কিন  প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ আমেরিকার সাথে যে চুক্তি হয়েছে তার কিছুটা নিম্নরুপ:

বাংলাদেশ তেল,গ্যাস, যা আমদানি করবে সব আমেরিকা থেকে আমদানি করতে হবে।তুলা থেকে যত পোশাক শিল্পের যন্ত্রাংশ সব আমেরিকা থেকে আমদানি করতে হবে।

বাংলাদেশের যত বোয়িং বিমান ট্রান্সফোর্ট বিমান ,যুদ্ধাস্ত্র সব আমেরিকা থেকে আমদানি করতে হবে, বাংলাদেশের যত সমুদ্র বন্দর সব যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং বাংলাদেশে শূকরের মাংস আমদানি করতে হবে, যা এতদিন নিষিদ্ধ ছিলো।

পুরো বাংলাদেশকে গোলামির জিঞ্জিরায় বেঁধে ফেলেছেন ইউনূস আর জুলাই চেতনার কুশিলবেরা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো আজ তা পরাধীনতার খোলসে বন্দী।

সাংবাদিক আনিস আলমগীর এই বিষয়ে কিছু কথা তুলে ধরেছেন:

“ইউনূসের গোলামী চুক্তিতে কি শুকর আমদানির কথা আছে?

আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের এই বাণিজ্য চুক্তিতে শুকরের মাংস আমদানির কথা সরাসরি কোথাও বলা নেই। কিন্তু ভেতরের ধারাগুলো পড়লে বিষয়টা এতটা সরল থাকে না।

Article 2.5 (Meat Terms) বলছে, মাংসের নির্দিষ্ট টার্ম বা নাম ব্যবহার করার কারণে বাংলাদেশ কোনো মার্কিন পণ্যের প্রবেশে বাধা দিতে পারবে না।

অর্থাৎ “meat” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ পণ্যের মধ্যে pork-ও পড়ে – সেক্ষেত্রে ধর্মীয় বা সামাজিক কারণে নামের ভিত্তিতে বাধা দেয়া যাবে না – এই ব্যাখ্যা দাঁড়াতে পারে।

Article 2.3 (Agriculture) বলছে, বাংলাদেশকে মার্কিন কৃষিপণ্যের জন্য market access দিতে হবে এবং SPS ব্যবস্থা হতে হবে “science-based” – অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়া কোনো পণ্য ঠেকানো যাবে না।

Article 2.1 (Import Licensing) অনুযায়ী, আমদানি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না যাতে মার্কিন পণ্যের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয়।
এছাড়া Article 2.7 (Non-discrimination) – এর নীতি অনুযায়ী, কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণও করা যাবে না”।

তিনি বলেন,

“এখন প্রশ্নটা খুবই সরল –
বাংলাদেশে শুকরের মাংস নিষিদ্ধ কেন?
বৈজ্ঞানিক কারণে, নাকি ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে?

উত্তরটা সবারই জানা – এটা বৈজ্ঞানিক নয়, ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতা।

কিন্তু যদি একসময় এই নিষেধাজ্ঞাকেই “non-scientific barrier” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় – তখন সেটাকে ধরে রাখা কতটা সহজ হবে?

চুক্তি সরাসরি বলে না – “শুকর আমদানি করতে হবে।”

কিন্তু এমন একটি কাঠামো তৈরি করে – যেখানে ভবিষ্যতে সেই চাপ তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।

বিষয়টা pork না – বিষয়টা নীতি, বাস্তবতা আর সার্বভৌম সিদ্ধান্তের। আজ না হলেও – এই প্রশ্ন একদিন আসবেই”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *