ঢাকা: যে প্রযুক্তিকে আমরা মানুষের জীবন সহজ করার জন্য তৈরি করেছি, ভবিষ্যতে সেই প্রযুক্তিই কি মানুষের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে? আসলে আমরা ছোটবেলাতেই পড়েছি বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ? সেটা প্রয়োগের উপর নির্ভর করে।
কয়েকজন গবেষক আশঙ্কা করছেন, উন্নত AI যদি একদিন মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
এআই গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বিষয়টা নিয়ে। কেউ কেউ মনে করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানুষের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক জ্যাকব কক্সন মাত্র চার মাস কাজ করার পর অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেন।
এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি বলেন, ‘এআইয়ের কারিগরেরা সত্যিই বিশ্বাস করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে পারে।’ অ্যানথ্রপিকের জ্যেষ্ঠ কর্মী ইভান হুবিঙ্গারও কক্সনের সঙ্গে একমত। তাঁর ধারণা, আগামি এক দশকের মধ্যে এমনটা ঘটার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি।
২২ সেপ্টেম্বর গবেষক ও শিক্ষাবিদদের আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক লেখায় এআইয়ের কারণে মানবজাতি কীভাবে বিপদের মুখে পড়তে পারে, তার পাঁচটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের এআই অধ্যাপক টবি ওয়ালশ।
ওয়ালশের তালিকায় রয়েছে সুপারইন্টেলিজেন্স, ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ, জৈব অস্ত্র, পারমাণবিক যুদ্ধ এবং শেষ পর্যন্ত এআইয়ের মাধ্যমে মানুষের নিজেদেরই ধ্বংস করার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু এআই ঠিক কীভাবে মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে?
সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই যদি কোনো ভয়ংকর নতুন জৈব অস্ত্র তৈরি করে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে দেয়, তাহলে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।
এটি এআই ফিউচার্স প্রজেক্টের তৈরি ‘এআই ২০২৭’ পরিস্থিতির একটি সম্ভাব্য পরিণতি।
আর সম্ভবত সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, শেষ পর্যন্ত মানুষ নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করে ফেলবে। আর এআই সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
একটি পরিস্থিতি কল্পনা করা যাক—এআই ব্যাপক হারে মানুষের চাকরি কেড়ে নিল, ভুল তথ্য দিয়ে তথ্যের জগৎকে দূষিত করল, রাজনীতিকে আরও বিভক্ত করে দিল এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি সঙ্গীর মাধ্যমে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক দুর্বল করে দিল।
এভাবে করে অবশেষে সমাজ খুব সহজেই ভেঙে পড়তে পারে।
তবে এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়—এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি।
প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, সতর্কতা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারও তত জরুরি।
AI ভবিষ্যতে মানুষের জন্য কতটা উপকারী হবে, আর কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—সময়ই তার উত্তর দেবে।
