ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং খাতের কপালে যে কী আছে, তা আল্লাহই ভালো জানেন! জনগণ তীব্র ভোগান্তিতে আছে সব ব্যবস্থা নিয়ে।

দেশের এক-দুইটা নয়, প্রায় ৩০ ব্যাংকের কার্ড (ডেবিট/ক্রেডিট), এটিএম বুথ, বাংলা-কিউআর আর এনপিএসবি (NPSB) লেনদেন নাকি টানা ৬ দিন/ প্রায় ১৫০ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে!

জনগণ বলছেন, কয়েকটা ব্যাংক থেকে মেসেজ দিয়ে জানিয়েছে:

“ITC পরিচালিত Q-Cash নেটওয়ার্ক তাদের সদস্য ব্যাংকগুলোর জন্য জরুরি সিস্টেম মাইগ্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কারণে ৪ অক্টোবর ২০২৬ রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্ড, ATM, IBFT ও QR লেনদেন বন্ধ থাকবে।”

জনগণের আরো অভিযোগ:

সার্ভিস বন্ধ করা হয়েছে ৪ অক্টোবর রাত ৯টায়, আর গ্রাহকদের মোবাইলে মেসেজ ঢুকছে রাত সাড়ে ১১টার পর! অর্থাৎ, সার্ভিস বন্ধ হওয়ার আড়াই ঘণ্টা পর ব্যাংকের ঘুম ভেঙেছে!

এমনিতে আধঘণ্টার জন্য মেইনটেন্যান্স হলেও ব্যাংকগুলো এক সপ্তাহ আগে থেকে এসএমেস ও ইমেইল পাঠায়। আর ৬ দিনের জন্য কোটি কোটি মানুষের পকেট শূন্য করে দিয়ে নোটিশ দিচ্ছে সার্ভিস বন্ধের আড়াই ঘণ্টা পর?! আবার শেষে লেখা— “সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত।”

সেলুকাস! এটা কি কোনো ‘সাময়িক অসুবিধা’? নাকি ডিজিটাল জিম্মিদশা?

এই জায়গায় সন্দেহ হচ্ছে জনগণের।

কোনো মাসের পর মাস চলা পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া কিউ-ক্যাশ কি ঘুম থেকে উঠে সিস্টেম মাইগ্রেশনের সিদ্ধান্ত নিল?

নাকি এখানে বড় কোনো সাইবার অ্যাটাক (Cyber Attack), ডাটা ব্রিচ বা কোনো সাবোটাজ (Sabotage) ঘটেছে, যা ধামাচাপা দিতে ‘মাইগ্রেশন’-এর দোহাই দেওয়া হচ্ছে?

যদি এটা পূর্বপরিকল্পিত হয়, তবে নিয়ম ভঙ্গ করে গ্রাহকদের কেন আগে জানানো হলো না? আর যদি জরুরি সংকট হয়, তবে আসল সত্যটা আড়াল করা হচ্ছে কেন?

কোটি কোটি মানুষের প্রতিদিনের কেনাকাটা, হাসপাতালের বিল, জরুরি লেনদেন থামিয়ে দিয়ে ব্যাংকগুলো নাটক দেখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কি কেবল দর্শক হয়ে থাকবে?

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দোহাই দিয়ে দেশের ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএমসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা প্রায় ছয় দিন বন্ধ থাকবে।

ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন কার্যক্রমের কারণে আগামী ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

যেসব ব্যাংকের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে

১. অগ্রণী ব্যাংক
২. বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক
৩. বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
৪. ওয়ান ব্যাংক
৫. বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক
৬. ব্যাংক এশিয়া
৭. বেসিক ব্যাংক
৮. ব্যাংক আল-ফালাহ
৯. কমিউনিটি ব্যাংক
১০. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
১১. আইসিবি ইসলামী ব্যাংক
১২. যমুনা ব্যাংক
১৩. জনতা ব্যাংক
১৪. মেঘনা ব্যাংক
১৫. মার্কেন্টাইল ব্যাংক
১৬. মিডল্যান্ড ব্যাংক
১৭. মধুমতি ব্যাংক
১৮. ন্যাশনাল ব্যাংক
১৯. এনসিসি ব্যাংক
২০. এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক
২১. এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক
২২. রূপালী ব্যাংক
২৩. শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক
২৪. সীমান্ত ব্যাংক
২৫. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
২৬. সোনালী ব্যাংক
২৭. সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক
২৮. ট্রাস্ট ব্যাংক
২৯. ইউনিয়ন ব্যাংক
৩০. উত্তরা ব্যাংক

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *