কিশোরগঞ্জ: পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে নিকলী উপজেলায় আলোচনায় এসেছে দুটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়। বিশাল বলতে বিশাল।

নাম মোস্তাক আর কামিনী। শাহিওয়াল জাতের ১ হাজার ৩০০ কেজি ওজনের ষাঁড়টির নাম ‘মোস্তাক’, আর ১ হাজার ২০০ কেজি ওজনের দেশি জাতের গরুটির নাম ‘কামিনী’।

লাল রঙের মোটাতাজা গড়নের শাহিওয়াল জাতের ষাঁড় ‘মোস্তাকের’ ওজন ১ হাজার ৩০০ কেজি। খানিক দূরে কালো-লাল রঙের আরেকটি বড় গরু। ১ হাজার ২০০ কেজি ওজনের গরুটির নাম ‘কামিনী’। প্রায় তিন বছর ধরে সন্তানের মতো লালনপালনের পর গরু দুটি হাটে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন হোসনা বেগম।

নামও বেশ বাহারি। যেমন গরু তেমন তাদের নাম।

এখন ঈদের আগে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে মোস্তাক, কামিনী।

গরু দুটিকে দেখতে দূর-দূরান্তের ক্রেতাদের পাশাপাশি উৎসুক লোকজন ভিড় করছেন। হোসনা বেগম গরু দুটি ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান।

অন্তত তিন বছর ধরে সন্তানের মতো লালনপালনের পর এখন কোরবানির হাটে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন খামারি হোসনা বেগম।

হোসনা বেগমের বাড়ি নিকলীর কারপাশা উজানহাটি এলাকায়।

তাঁর স্বামী মারা গেছেন। প্রায় ১৫ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের বাড়িতে থেকে দুই সন্তানকে পড়াশোনা করাচ্ছেন, এর পাশাপাশি বসে না থেকে গরু পালন শুরু করেন তিনি। এই উদ্যোগ আজ কতটা বড় হয়েছে। তিনি সমাজের উদাহরণ হয়েছেন।

সেই খামারের গরুই ‘মোস্তাক’ ও ‘কামিনী’।

হোসনা বেগম আশা করছেন, গরু দুটি মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি জানান, তিন বছর আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে গরু দুটি কেনা হয়েছিল।

নিয়মিত পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাবার ও যত্নের জন্য গরুগুলো এত বড় হয়েছে।

প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকার ভুট্টা, ছোলা, শুকনো খড়, কাঁচা ঘাস ও গমের ভুসি খাওয়ানো হয় তাদের। পুরো দেশী খাবার খেয়ে তারা এতবড় হয়েছে।

হোসনার ভাই সাইদুর রহমান বলেন, শাহিওয়াল জাতের ‘মোস্তাক’ শান্ত স্বভাবের হলেও ‘কামিনী’ কিছুটা চঞ্চল।

দুটো গরুকে খুব পরিষ্কার রাখা হয়। গোসল করানো থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ। বৈদ্যুতিক পাখার নিচে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

পশুচিকিৎসকদের সাহায্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফিতার মাপে গরুগুলোর ওজন আড়াই হাজার কেজি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *