মাগুরা: ৫০৬ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে এক মাসে! বিদ্যুৎ অফিসে কি মানুষ বিল বানাচ্ছে নাকি ভূতে বানাচ্ছে! এ তো মনে হচ্ছে সারা বাংলাদেশের বিল এক গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
এক আবাসিক গ্রাহকের এক মাসে ২৩৫ ইউনিটের জন্য ৫০৬ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল আসার ঘটনায় মাগুরা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারকে (জিএম) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর জরুরি নির্দেশনায় বুধবার পল্লী বিদ্যুতের মাগুরার জিএম মো. মহিতুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত করলেন কী হবে? সেই আবারো ঘটবে এমন ঘটনা।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভূতুড়ে বিলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মন্ত্রী ভুক্তভোগী গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যুৎ বিলটি হয়েছিল মাগুরা সদর উপজেলার মাঘী ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে।
সেপ্টেম্বর মাসে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য তাঁর নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়।
বিলের বিবরণীতে মিটারের রিডিং দেখা যায়, ১৬০ থেকে বেড়ে ৩৯৫ ইউনিট। তার এই ২৩৫ ইউনিটের প্রকৃত বিদ্যুৎ বিল হওয়ার কথা ছিল ৯৫৬ টাকা।
তবে বিলে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ আরও ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা যোগ করায় মোট বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে মিটার পরিবর্তনের সময় এই ভুল হয়। মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ভুলবশত ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এই ভুল তথ্যের কারণেই এত বিশাল অঙ্কের বিল তৈরি হয়।
গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, এমন অস্বাভাবিক বিল দেখে তিনি বিভ্রান্ত ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিল তৈরির ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল যেন পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এইভাবেই দেশের মানুষের রক্ত শুষে খাচ্ছে এই সরকার।
