ঢাকা: দেশে লোডশেডিং কমেনি এখনো।
সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে শনিবার, মঙ্গলবার রেগুলার বিদ্যুৎ থাকে না, বাকি থাকে ৫দিন, এই ৫ দিনের মাঝে ও মাঝে মাঝে মাইকিং করে বলতে শোনা যায় এখানে কাজ করবে, ওখানে কাজ করবে এর জন্য সারাদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে।

দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের রেকর্ড রয়েছে।

অথচ দেখা যায় বিদ্যুতের বিল ইয়া লম্বা চলে আসছে হাতে।

এত বিদ্যুৎ না থাকার মাঝেও শুধু একটা ফ্রিজ, লাইট, ফ্যান চালানোর এক মাসের বিদ্যুৎ বিল কি করে ৩২২৯ টাকা আসে?
আর একজন গ্রাহকের আসছে ৩০ হাজার টাকা।

অসহায় মানুষদেরকে জীবিত কবর দেওয়ার মতো অবস্থা হচ্ছে গ্রামে, সকলেরই একটাই অভিযোগ বিদ্যুৎ বিল এত বেশি কেন? কোথায় কি অনিয়ম বা কি সমস্যা হচ্ছে?

এই ক্রমবর্ধমান লোডশেডিং এবং দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির চাপ থেকে বাঁচতে বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের (সোলার প্যানেল) দিকে ঝুঁকছেন দেশের সাধারণ মানুষ ও শিল্প মালিকরা।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘কাপ্তান বাজার’ এখন হয়ে উঠেছে দেশের এই সৌর বিপ্লবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

দৃশ্য তো তাই বলছে।

এবং কাপ্তান বাজারে নজিরবিহীন চাহিদাও দেখা গিয়েছে।

দেশের অন্যতম বৃহত্তম সোলার যন্ত্রাংশের বাজার কাপ্তান বাজারে গত কয়েক মাসে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

দোকানিদের মতে, আগে শুধু গ্রামীণ গ্রাহকদের আনাগোনা থাকলেও এখন শিল্প-কারখানার মালিক ও শহরের আবাসিক গ্রাহকদের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে।

চীন থেকে সোলার সামগ্রী আমদানির খরচ কমে যাওয়ায় প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ৭৫০ ওয়াটের একটি প্যানেল বর্তমানে প্রায় ১৫,০০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা বিদ্যুৎ বিলের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী।

চীন থেকে বাংলাদেশে সোলার ও ব্যাটারি আমদানির পরিমাণ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দ্বিগুণ বেড়ে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। জিংকো সোলার ও লঙ্গি গ্রিন এনার্জির মতো চীনা ব্র্যান্ডগুলোই দেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

তবে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের মতো ভারী শিল্পে সোলারের ব্যবহার কিছুটা সীমাবদ্ধ। মোশাররফ গ্রুপের মতো বৃহৎ টেক্সটাইল শিল্পের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সোলার প্যানেল শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, কিন্তু কাপড় ডাইং এবং ফিনিশিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্টিম (বাষ্প) তৈরি করতে পারে না।

ফলে টেক্সটাইলের বয়লার সচল রাখতে এখনও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপরই পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে সৌরবিদ্যুৎ খরচ কমানোর এক বড় হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *