ঢাকা: স্বাধীনতার পরে এই প্রথমবার ভারতের পূর্ব অসমের ডিব্রুগড় থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ ধরে আন্তর্জাতিক জলপথে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাল ভারত।
অসম পেট্রো কেমিক্যালস লিমিটেডের তৈরি ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে সোমবার রওনা দেয় বার্জ ‘ডিএলবি পাটকাই’।
ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সোমবার ওই যাত্রার সূচনা করেছেন। অসম পেট্রো কেমিক্যালস লিমিটেডের নামরূপ কারখানায় উৎপাদিত মিথানল বাংলাদেশের পানগাঁও বন্দরে পৌঁছবে।
আসামের ডিব্রুগড় এবং বাংলাদেশের ঢাকার মধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা নৌপথটি পুনরুজ্জীবিত করে সোমবার বাংলাদেশে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে জাহাজটি শুভ যাত্রা শুরু করে।
সোমবার বগীবিল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের মিথানলবাহী জাহাজটির যাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
সর্বানন্দ সনোয়াল সাবেক মুখ্যমন্ত্রী (আসাম), তিনি বলেন, আমাদের দাদা-দাদিরা ডিব্রুগড় ঘাটে স্টিমারের বাঁশির শব্দ শুনে বড় হয়েছেন। ৭০ বছর ধরে, যখন ঘাটটি বন্ধ ছিল, সেই বাঁশির শব্দ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং জাহাজ আসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, আবার ডিব্রুগড় থেকে একটি জাহাজ বিশ্বের উদ্দেশে যাত্রা করছে। নদী কখনো আমাদের ব্যর্থ করেনি। কয়েক দশক ধরে যা ছিল না, তা হলো এটিকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আসামের নিজস্ব পণ্য নিজস্ব নদীপথে আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে, এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তর-পূর্বাঞ্চল এখন আর সীমান্তবর্তী অঞ্চল নয়। এটি পূর্বাঞ্চলের দিকে ভারতের প্রবেশদ্বার।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্রকে উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বিদেশি বাজারে পণ্য পরিবহনের বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর করিডর হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, এই যাত্রাকে তার পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নিয়মিত মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি বগীবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় এই চালান পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
