ঢাকা: লোডশেডিংয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেশের। এখন ঢাকাতেও লোডশেডিং করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আন্ধারে, গরমে নাকাল জনগণ! বড়রা যেকোনোভাবে সহ্য করে নেয়, সবচেয়ে কষ্ট শিশু, বয়স্ক, অসুস্থদের।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা! দেশে অর্থনৈতিক খাতে এর প্রভাব পড়ছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে!

গ্রামাঞ্চলে ১০/১২ ঘন্টা করে কারেন্ট থাকে না। কী যে এক অন্ধকারে ডুবেছে আবার দেশ! পল্লী অঞ্চলের গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে লোডশেডিংয়ে। একই যন্ত্রণায় এবার রাজধানীবাসীকেও নাজেহাল হতে হবে।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, জ্বালানি সংকটে দেশের ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বন্ধ রয়েছে প্রায় ৩৫টি। এবং অবসরে চলে গেছে আরও অন্তত ২০টি।

চাহিদা যতখানি, বিদ্যুৎ নেই ততখানি। এখন চাহিদার তুলনায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম সরবরাহ করতে পারছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আবহাওয়ায় পরিবর্তন না আসলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে।

এতে করে ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিং আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পিডিবির তথ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে ২০০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। তবে বিতরণ কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, বিদ্যুতের ঘাটতি প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি।

এদিকে, এই ভয়ঙ্কর লোডশেডিংয়ের মধ্যে আরো একটি দুঃসংবাদ হচ্ছে আদানির একটি ইউনিটও বন্ধ রয়েছে।

দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে ভারতের আদানি গ্রুপ। গ্রুপটির বিদ্যুৎ কোম্পানির দুটি ইউনিটের একটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সেই ইউনিট ১১ এপ্রিল চালু হয়।

তবে ১১ দিনের মাথায় বুধবার দুপুরে ফের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে লোডশেডিং আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, পায়রার আরএনপিএল, চট্টগ্রামের এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট কেন্দ্রগুলোয় কয়লার অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এমন অবস্থা হয়েছে মানুষ নিজেই বুঝতে পারছে না যে তারা বেঁচে আছে না মারা গেছে! কথাটা শুনতে খারাপ কিন্তু বাস্তব এটাই।

তাছাড়াও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে উত্তরবঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের বড় উৎস দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

কোন জঙ্গলে প্রবেশ করলো দেশ! চারদিক অন্ধকার। রাত হলে মনে হয় ভূতের দেশ। এতে চোর ডাকাতের উৎপাত বাড়ছে আরো।

মানুষ না পারছে রান্না করতে, না পারছে ফ্রিজের কোনো খাবার খেতে। সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তার উপর চলছে তাপপ্রবাহ।

এদিকে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে উৎপাদনে পিছিয়ে থাকা কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসবে। এর ফলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *