ঢাকা: বিদ্যুৎ নেই- চারদিকে লোডশেডিং চলছে। লজ্জাজনক অবস্থা, আজকে ২০২৬ সালে এসেও একটা স্বাধীন রাষ্ট্রে মানুষকে কতটা কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।

আজ বাস্তবতা আরও ভয়াবহ! আজ “পরিবর্তনের” নামে পরিস্থিতি যেন আরও অবনতির দিকে।

জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার, গ্যাসের জন্য হাহাকার—শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র একই চিত্র। বোতলজাত গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন! কী একটা অবস্থা!

মাঠের মানুষগুলো জানে তারা কতটা অসন্তুষ্ট, কতটা বিপর্যস্ত।

জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের ঘাটতি এবং লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমে গিয়েছে। কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে।

পরিবহনের বাড়তি ব্যয় সামলাতে হচ্ছে জনগণকে। গত দুই মাসে তৈরি পোশাক, ইস্পাত, সিমেন্ট, ওষুধ, হিমায়িত মৎস্য, ভোগ্যপণ্য তৈরির কারখানায় উৎপাদন কমেছে গড়ে ২৪ শতাংশ। এবং একই সময়ে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি।

সাভার-আশুলিয়ায় সাড়ে তিন শতাধিক সচল পোশাক কারখানা ও আনুষঙ্গিক প্রতিষ্ঠান আছে। সেগুলোতে দৈনিক উৎপাদন কমে গিয়েছে ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দিনে কমপক্ষে ২ ঘণ্টা কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মো. হাতেম।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সংকট এতটাই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে যে কোথাও কোথাও ৬-৭ ঘণ্টা কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ভালুকা-রাজেন্দ্রপুরের কারখানাগুলো পল্লি বিদ্যুতের আওতাধীন হওয়ায় সেগুলোতে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে তেল পাচ্ছি না। প্রথমত তেলের সংকট। পাশাপাশি বিপিসির নির্দেশনা অনুসারে ড্রামে করে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

আমরা বিপিসির সঙ্গে কথা বলেছি, তবে বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। আমাদের পক্ষে তো জেনারেটর মেশিন ফিলিং স্টেশনে নিয়ে তেল নেওয়া সম্ভব না। এটা তো গাড়ি না যে ঠেলে কিংবা চালিয়ে নিয়ে যাব। তেল না পাওয়ায় গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের অনেক কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *