ঢাকা: সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। এই খবরের মাঝেই আরো একটা খবর এসে পড়লো।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা অনুমোদন স্থগিত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস।

দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কাজের অনুমতিপত্র, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্থগিত করা হয়েছে।

এই স্থগিতাদেশ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

উল্লেখযোগ্য যে, গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনায় লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ, মানবপাচার, অনুমোদনহীন শ্রম দালাল এবং শ্রমিক নিয়োগের পর তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গত ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নির্দেশনার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য লাওশিয়ান টাইমস’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার, অননুমোদিত শ্রমিক সরবরাহ এবং শ্রমিক আনার পর দায় এড়ানোর প্রবণতা রোধ করার জন্য এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বিশেষভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হয়তো সমস্যাটা বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেই।

এই বিষয়ে অবশ্য নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা বা শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিজের উদ্যোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের লাওসে প্রবেশ অথবা কাজে নিয়োগের অনুমোদন দিতে পারবে না।

উক্ত আদেশের ফলে ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা এবং লেবার অপারেটররা স্বাধীনভাবে কোনও বাংলাদেশি নাগরিকের প্রবেশ বা কর্মসংস্থানের অনুমতি দিতে পারবেন না।

এবং ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য লেবার ভিসা পারমিট অনুমোদন দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে।

আইন অমান্যকারীদের শাস্তি ভোগ করতে হবে। জরিমানা, বাধ্যতামূলক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল করার মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আমদানি বা নিয়োগ করলে প্রতি শ্রমিক ও প্রতি লঙ্ঘনের জন্য নিয়োগকর্তাকে ২৫ লাখ লাও কিপ বা ১১০ ডলার জরিমানা দিতে হবে।

অন্য শ্রম ইউনিটে পুনর্বণ্টনের জন্য শ্রমিক আমদানি করলেও একই পরিমাণ জরিমানা প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে ভিন্ন শ্রম ইউনিটে নিয়োজিত কর্মী ব্যবহার বা গ্রহণকারী নিয়োগকর্তাদের প্রতি কর্মী প্রতি ২০ লাখ লাও কিপ বা ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে।

তবে নির্দিষ্ট চুক্তির সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত বড় সরকারি অনুমোদিত অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *