ঢাকা: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং কালোটাকার বিস্তার ঠেকাতে এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এই নোটিশটি পাঠান।
কিন্তু এত নাটক করার কী দরকার? তাই না? সরাসরি বললেই তো হয়—নতুন নোট ছাপিয়ে সেখানে বিএনপির মেজর জিয়া বা বেগম জিয়ার ছবি বসানোর ইচ্ছা আছে!
তাছাড়া হিসাবহীন টাকা পাচার হওয়ার পর, পেটে যাওয়ার পর এখন হঠাৎ করে মনে পড়লো কালো টাকার কথা?
কালো টাকা কেউ এখন আর বস্তায় ভরে ঘরে রাখে নাকি? কয়েক মিনিটের মধ্যেই কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব।
নোট বাতিল করলেই যে কালো টাকা বন্ধ হয়ে যাবে—এমনটা ভাবার আগে বাস্তবতাটাও একটু দেখা দরকার। এই দেশ থেকে দুর্নীতি বড় বড় কথা দিয়ে কোনোদিন দূর করা যাবে না।
চাল থেকে চিনি – মূল্যবৃদ্ধির আগুনে জ্বলছে দেশ। জ্বালানি তেল, এমন কোনো মৌলিক জিনিস নেই যার দাম একটু সহনীয়। নাভিশ্বাস উঠেছে আমজনতার।
এই পরিস্থিতিতেই দেশের অর্থনীতিকে ‘বাঁচাতে’ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের পথে দেশ!
নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনও ধরনের রিজার্ভ ছাড়াই ক্রমাগত টাকা ছাপাচ্ছে। অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির নিয়ম অনুযায়ী, নতুন টাকা ছাপানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সমপরিমাণ স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার (যেমন : ডলার, ইউরো, আরএমবি) রিজার্ভ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু এই নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো টাকা ছাপানোর ফলে টাকার নিজস্ব মান ধ্বংস হচ্ছে। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। দেশে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি তৈরি হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।
নোটিশে আগামি ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করার কথা জানানো হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির বিষয়টিকে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে থাকা জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে নোটিশে। এতে বলা হয়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এক হাজার টাকার নোট বাতিলের দাবি নোটিশে এক হাজার টাকার নোট বাতিলেরও দাবি জানানো হয়েছে।
বলা হয়, দৈনন্দিন লেনদেনে সাধারণ মানুষের জন্য বড় মূল্যমানের এই নোটের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম।
কিন্তু দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ গোপন রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের নোট ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে।
