ঢাকা: দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট জ্বলন্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।
তারা এমন পরিস্থিতিকে গুরুতর উল্লেখ করে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ চেয়েছে।
বিদ্যুৎবিভ্রাট ও তীব্র জ্বালানিসংকটের কারণে মোবাইল অপারেটররা নেটওয়ার্ক সচল রাখতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের টেলিযোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
আর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকিং লেনদেন, জরুরি সেবাসহ মোবাইল নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক সমস্ত কার্যক্রমে। জনগণকে এর যাবতীয় কষ্ট ভোগ করতে হবে।
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) সম্প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে এই পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর ও ক্রমবর্ধমান সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহের দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন এবং জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার কারণে অপারেটররা এখন এমন অবস্থায় রয়েছে, যেখানে সরকারের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ছাড়া টেলিকম কার্যক্রম টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
লোডশেডিংয়ের মাত্রা এখন আরো বেড়ে গিয়েছে। অনেক এলাকায় পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না এবং ঝড়-বৃষ্টির পর পুনঃসংযোগেও দেরি হচ্ছে।
ফলে টেলিকম অবকাঠামো নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অপারেটরদের প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর।
এই নির্ভরতার পরিমাণ এখন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অপারেটরদের হিসাবে, শুধু মোবাইল বেইসড ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) চালু রাখতে প্রতিদিন ব্যবহৃত হচ্ছে প্রায় ৫২ হাজার ৪২৫ লিটার ডিজেল ও ১৯ হাজার ৮৫৯ লিটার অকটেন।
এর বাইরে ডেটা সেন্টার ও সুইচিং অবকাঠামো সচল রাখতে আরো ২৭ হাজার ১৯৬ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে।
তবে জ্বালানিসংকটের কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেলে এর প্রভাব মোবাইল নেটওয়ার্কে পড়বে।
উল্লেখযোগ্য যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ডেটা সেন্টারগুলোতে প্রতিদিন প্রায় চার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। আর বিদ্যুৎ না থাকলে এসব কেন্দ্র সচল রাখতে প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার জ্বালানি লাগে।
মোবাইল অপারেটর কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের ডেটা সেন্টারগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ২৭ হাজার ১৯৬ লিটার ডিজেল ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ১১ হাজার ১৮৪ লিটার, রবির ৯ হাজার ৭৩২ লিটার ও বাংলালিংকের আট হাজার ২০০ লিটার ডিজেল ব্যবহৃত হচ্ছে।
