পাবনা: আবার রূপপুর এনপিপিতে রুশ প্রকৌশলী লাশ! নিছক কাকতালীয় নাকি গুপ্তহত্যা? ২০২৫ সালেই ৫ প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে!
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নতুনহাট গ্রিন সিটি আবাসিকে ব্যায়াম করার সময় চুরকিন ভ্লাদিমির নামে এক রুশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (এনপিপি-নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট) যখন তার উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, দেশ যখন কিছুটা এগিয়ে ঠিক তখনই সেখান থেকে এলো রুশ প্রকৌশলীর মৃত্যুর খবর।
চুরকিন ভ্লাদিমির (৪০) নামের একজন প্রতিভাবান প্রকৌশলীর মৃত্যু ঘিরে সন্দেহ বাড়ছে।
স্বাভাবিক এই মৃত্যু নয় বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ এই রূপপুর নিয়ে যথেষ্ট ষড়যন্ত্র আগেও হয়েছে এখনো হচ্ছে।
যা জানা গেছে, শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন চুরকিন ভ্লাদিমির। পরে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে বলা হচ্ছে, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত চুরকিন ভ্লাদিমির রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান Atomtech Energo তে কর্মরত ছিলেন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
আসাদুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটমের তত্ত্বাবধানে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে প্রায় ৭ হাজার রাশিয়ান প্রকৌশলী ও কর্মী কাজ করছেন।
তবে এই মৃত্যুগুলো নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
২০২৫ সালেই পাঁচটি মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। এবং ২০২৬ সালের প্রথম ৫ মাসে যোগ হয়ে গেছে আরও দুটি নাম।
এ সব মৃত্যু এমনি এমনি?
২০২৫ সালের হিসেবটা একটু দেখে নিই:
৪ জানুয়ারি পাশাতারুক ক্সেনেলা (৪০) গ্রিন সিটির একটি বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন।
১০ জানুয়ারি ইভান কাইটমাজোভ (৪০) নিখোঁজ হয়ে যান। ৫ দিন পর তাঁকে পাওয়া যায় নয় তলার ওয়াশরুমে, মৃত অবস্থায়।
সেপ্টেম্বরে কারপোভ ক্রিল (২৬), তরুণ ইলেকট্রিশিয়ান, ঢাকার জিগাতলার ভাড়া বাসায় উপুড় অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
অক্টোবরে আনোয়ার আহমেদ (৫২) — একজন বাংলাদেশি নাগরিক, রাশিয়ান কোম্পানি নিকিমতের দোভাষী মারা যান। তাঁকেও ভাড়া বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
২০২৬ সাল পড়লো, এবং হিসেবটা দেখি:
২ জানুয়ারি, রাইবাকভ মাকসিম (৩০) রূপপুর এনপিপির গ্রিন সিটির ভবনে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় মরদেহ।
তারপর মে— চুরকিন ভ্লাদিমির (৪০) ব্যায়াম করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মৃত্যু।
মৃত্যুতেই শেষ না। ইউনূস সরকারের সময় ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গিয়েছিল বিপুল অর্থব্যয়ে রাশিয়া থেকে আসা এনপিপির গুরুত্বপূর্ণ সব সরঞ্জাম।
এই রহস্যের উন্মোচন কবে হবে?
