ঢাকা: কী মারাত্মক অশান্তিতে ভুগছে মানুষ। অশান্তির কোনো সীমা নেই।

এই সরকারের অপশাসনে তলানিতে ঠেকেছে দেশের জ্বালানি খাত। যে কেজিডিসিএলের দৈনিক চাহিদা ৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের, সেখানে সরবরাহ নেমেছে মাত্র ১৯ কোটিতে। ১৬ কোটি ঘনফুটের বিশাল ঘাটতি যেন এক আজব রসিকতা।

বিদ্যুৎ, শিল্প, আবাসিক সব খাতেই চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে গেছে। তারা কী করবে? সংসার,‌বাচ্চা কীভাবে চালাবে? সরকারের কোনো দায় নেই। এই দেশে তোমার জন্ম, তোমার দায় তুমি নিয়ে চলো!

সবচেয়ে বড় থাবা পড়েছে পথের কষ্টার্জিত রুটিরুজির ওপরে।

ফিলিং স্টেশনের লাইনে কেউ চার ঘণ্টা, কেউ পাঁচ ঘণ্টা, কেউ ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে শেষমেশ গ্যাসই পাচ্ছেন না। যানবাহনের চালকেরা দিনের অর্ধেকটা সময়ই নষ্ট করছেন গ্যাসের মিছিলে।

আগে ২০ থেকে ৩০ মিনিটেই গ্যাস নিয়ে রাস্তায় নামা যেত। এখন পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও নিশ্চিত নয় গ্যাস পাওয়া যাবে কি না।

নিয়মিত সিএনজি গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ছাতকের সিএনজি চালিত অটোরিকশা শ্রমিকরা।

এ সময় তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে গ্যাস সরবরাহের সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। দাবি জানালে কী হবে? দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। টেনে উপরে তুলতে ব্যর্থ এই সরকার। জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

মানুষের মৌলিক চাহিদাই যদি পূর্ণ না হয়, মানুষ কী করবে?

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে আন্দোলন করেন শ্রমিকরা। এতে সড়কে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, নিয়মিত গ্যাস না পাওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় রাত-দিন অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

কী কারণে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে শ্রমিকদের।

তারা বলেন, ‘আমরা শ্রমিক। গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। সঠিক সময়ে নিয়মিত গ্যাস না পেলে আমরা গাড়ি চালাব কীভাবে? ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পাওয়ায় আমাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে’।

সিএনজিচালকদের দৈনন্দিন আয় একেবারে তলানিতে চলে গিয়েছে। বাড়িভাড়া, সংসার খরচ, গাড়ির জমা উঠছে না।

কেউ কেউ বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন।যাত্রীদেরকেও গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *