চট্টগ্রাম: গ্যাস সংকটের কারণে আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের বড় তিনটি সার কারখানাই এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
আগে থেকেই তো বন্ধ ছিল চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড।
এবার একই এলাকায় থাকা ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদনও বন্ধ। ব্যস! সব বন্ধ।
অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাটির কার্যক্রম থেমে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এখন কৃষক কার্ড ঘষা দিলেই ফসল মাটির নিচ থেকে উঠবে। আর কী?
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানাটির মজুত অ্যামোনিয়া শেষ হয়ে গেলে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও বিভাগীয় প্রধান (প্রশাসন) আলমগীর জলিল সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে নতুন করে সরবরাহ না আসায় তা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ডিএপি সার কারখানাটি নিয়ন্ত্রণ করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।
এ কারখানা দেশের কৃষিক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছিল। দেশের কৃষি খাতে যৌগিক সারের (নাইট্রোজেন ও ফসফরাস–সংবলিত) চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সরকার কারখানাটি স্থাপন করে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়।
ওই কারখানার দুটি ইউনিটের প্রতিটিতে ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে।
কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গত ৪ মার্চ থেকেই অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুত দিয়ে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। এখন তা শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে উৎপাদন পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
