ঢাকা: জ্বালানি তেলের যে হারে মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, তাতে নিত্যপণ্যের বাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

আর এমনিতেও তো দেশের বাজারে ব্যবসায়ীরা বরাবর লুটের ধান্দায় থাকেন, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ঝোপ পেলেই খদ্দেরের গলা কাটা তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।

এখন তো আরো সুযোগ। যেহেতু জ্বালানির দাম আকাশ পার হয়ে মহাকাশ ছুঁয়েছে।

ট্রাক ভাড়া বাড়ায় দুই দিনের ব্যবধানে এক প্রকার অসময়ে কেজিপ্রতি ৫-৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম।

পাশাপাশি অসহনীয় মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সঙ্গে আদা, রসুন, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ ও মরিচের দামও কেজিতে ২০-৪০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

নিত্যপণ্যের বাজারে এসব পণ্য কিনতে ক্রেতার বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

এলপিজির দামেও লেগেছে আগুন। মানুষ কোনদিকে যাবে, সংসার কীভাবে সামলাবেন, ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছে না।

শাক সবজি ১২০/২২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যপণ্য, কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, এমনকি মশলাজাত পণ্যের দামে হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের।

বিভিন্ন পণ্যের দাম বিভিন্ন সময়ে কিছুটা ওঠানামা করলেও এখন সব ঊর্ধ্বমুখী।বৈশাখের মৌসুমে লাগামহীন দামে বিক্রি হচ্ছে নানান সবজি।

সারাদেশে সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাজার তদারকির অভাবে এই দাম আকাশচুম্বী।

বাজারে আলু, পেঁপে ও গাজর ছাড়া প্রায় সব সবজির দাম বেশি। এমনকি গ্রীষ্মের সবজি বেগুন, পটল, ঢ্যাঁড়সের দামও কেজিতে ১৪০/১৬০ বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক অন্য বছরের ভরা মৌসুমের দামের চেয়ে প্রায় কয়েকগুণ বেশি।

শাকের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। নিত্যপণ্যের এই উচ্চ মূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যাতে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিভিন্ন খাতে না পড়ে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সেই তুলনায় দেশে জ্বালানির যে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, তা খুবই সীমিত।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমরা যে খাদ্য খাই, তা জ্বালানি তেলে তৈরি না। এর দাম উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে জড়িত। ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতেও জ্বালানি খরচ হয় মোট উৎপাদন খরচের ৭ থেকে ৮ শতাংশ। তাই পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়বে না।’

এই কী তিনি বাজার সম্বন্ধে খবর রাখেন? অদ্ভুত!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *