ঢাকা: বিদেশি বিষাক্ত মাকড়সা ও সাপ আনা হচ্ছে বাংলাদেশে! যা মারাত্মকভাবে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ঢাকার মিরপুরের রূপনগরে অভিযান চালিয়ে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ন স্নেক, লেপার্ড গ্যাকো, ব্যাঙ, কচ্ছপসহ ১,১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
এই খবরটি আমরা আগেই করেছি।
তদন্তে জানা গেছে, প্রাণীগুলো অবৈধভাবে সংরক্ষণ করে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল এবং এর আগেও কয়েক হাজার প্রাণী বিক্রি হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি প্রাণী আনার প্রধান কারণ হলো শৌখিনভাবে পোষা প্রাণী হিসেবে বিক্রি করা এবং এর আরো কারণ রয়েছে।
তাঁরা সতর্ক করেছেন, এসব বিষাক্ত প্রাণী দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এবং নতুন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়ায়। ফলে জনজীবনে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশের আইনে বিদেশি বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ এবং পরিবহন দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
তারপরেও কোন সাহসে এইসব বাণিজ্য চলছে? সরকার কি ঘুমিয়ে আছে?
থাইল্যান্ড থেকে বিমানবন্দর হয়ে মিরপুরের রূপনগর! ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে আমাদের জীববৈচিত্র্য! শৌখিন পোষা প্রাণীর আড়ালে বাংলাদেশে ঢুকছে বিষাক্ত মেক্সিকান কিং স্নেক আর ট্যারান্টুলা মাকড়সা।
কিন্তু কেন হঠাৎ দেশে বাড়ছে এই ভয়ঙ্কর প্রাণীদের অবৈধ আনাগোনা? এর পেছনে কি বড় কোনো আন্তর্জাতিক পাচারচক্র কাজ করছে? প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে। আইনের তোয়াক্কা না করেই তো চলছে এইসব। আইনের তোয়াক্কা করে না কেন? কারণ আইন কঠোর নয়।
দেশের ভেতরে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা, মেক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক কিংবা আফ্রিকার ব্যাঙের মতো বিপজ্জনক প্রাণী খাঁচায় বা অ্যাকুরিয়ামে পুষে রাখার এক ধরনের অস্বাভাবিক শখ মানুষের তৈরি হয়েছে ।
বাংলাদেশের মানুষ হুজুগে। অনেক বোঝে আবার কিছুই বোঝে না।
অবৈধ ব্যবসার বিস্তার যেভাবে হচ্ছে , তা রোধ করতে বিমানবন্দরগুলোতে ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিটের সরাসরি তদারকি ও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলছেন, “বিষাক্ত ট্যারান্টুলা, মাকড়শা কিংবা ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক বাংলাদেশের অনেকেই এখন শখে পুষছেন- এমনকি অবাক করার মতো বিষয় যে, আফ্রিকার ব্যাঙও এখন লালনপালন করা হচ্ছে।”
তিনি বলছেন, অনুমতি সাপেক্ষে যে-সব প্রাণী বিদেশ থেকে আনার সুযোগ রয়েছে, মূলত তার আড়ালেই অবৈধ প্রাণী বাংলাদেশে আনছেন অনেকে।
বিমানবন্দরে স্বর্ণ বা অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি থাকলেও, পোষা প্রাণী আনার ক্ষেত্রে নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
