গাজীপুর: গাজীপুরের প্রায় সকল কারখানা বন্ধ ঘোষণা। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় হাজার হাজার শ্রমিক।

দেশটা ধীরে ধীরে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের পর থেকে সারাদেশে শত শত পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক চাকরিচ্যুত হয়েছে, দেশে ক্রমাগত বেকারত্ব বাড়ছে।

একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের ঘামেই সচল থাকে দেশের অর্থনীতির চাকা। অথচ সেই শ্রমিকদেরই ন্যায্য বেতনের দাবিতে রাস্তায় নামতে হয়, চোখের পানি ফেলতে হয়—এটা সত্যিই কষ্টের।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ৩০ হাজার টাকা বেতন কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার দাবি।

৩০ হাজার টাকা মাসে আসলে বিলাসিতা করার সুযোগও নেই।

শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হোক। শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শিল্প বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম বেতন এই ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এরপর অন্তত ১৮ থেকে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ১২টি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষিপ্তভাবে আন্দোলন করছেন।

এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

কালিয়াকৈরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অন্তত ১৮ থেকে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা।

এবং আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন প্রতিবাদে।

এরপরেই পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষের পর আশপাশের কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অন্তত ১২টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *