ঢাকা: ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে দেশ জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। যে যার পছন্দের দলকে সাপোর্ট করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্বকাপের আনন্দের মধ্যে সহিংসতার ঘটনাও কম নয়।

বিশ্বকাপ উৎসবের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগজনক সহিংসতা। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, মারামারি, ছুরিকাঘাত, এমনকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে।

কোথাও পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, কোথাও শোভাযাত্রায় দুর্ঘটনায় মারা গেছে, আবার কোথাও অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

এসব ঘটনায় জানা গিয়েছে ইতিমধ্যে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন সমর্থকদের সংঘর্ষে, তিনজন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, একজন অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসের সময় স্ট্রোকে, একজন শোভাযাত্রার সড়ক দুর্ঘটনায়, একজন গোলপোস্ট বা ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে এবং একজন কিশোরদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন।

এদিকে, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী সহিংসতা, জনদুর্ভোগ, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই রিট আবেদন করেন।

সর্বসাধারণের জন্য বিশ্বকাপ প্রদর্শনী ও  উদ্‌যাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “পত্রিকার খবর অনুসারে এ পর্যন্ত  ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করায় শিশু ও বৃদ্ধসহ জনসাধারণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এ রিট আবেদন করা হয়েছে। ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয় রিটে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকদের মধ্যে বাকযুদ্ধ মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবি নজরদারি করবে।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে। এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক – কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *