ঢাকা: সাত মাসে দেশে নিখোঁজ ১৫,৭১৭ শিশু! প্রতিটি নিখোঁজ শিশু একটি পরিবারের জন্য ভয়াবহ দুশ্চিন্তার কারণ। কোথায় যাচ্ছে এত শিশু? রাষ্ট্র, সরকার কী করছে?
কিন্তু শিশুদের নিরাপত্তা বা অন্য কোনো সতর্কতা, এতে কী শুধু অভিভাবক এবং জনগণের সতর্কতায় কাজ হবে? সরকার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, সাহায্য না থাকলে তো কোনোকিছুই সম্ভব নয়।
তাছাড়া এই হিসেব যে সঠিক এমনটাও নয়।
কারণ অসহায়, ছিন্নমূল, ভবঘুরে শিশুদের জন্যে তো ডায়েরি করার কেউ নেই। তাদের সংখ্যা যুক্ত হলে কেমন হতে পারে এই পরিসংখ্যান?
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। বলা হচ্ছে , এই শিশুদের মধ্যে ২ হাজার ৩৮ জনের সন্ধান এখনো মেলেনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ওই সময়ে নিখোঁজ ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে অথবা তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, নিখোঁজ শিশুদের ১৩ শতাংশের সন্ধান এখনো মেলেনি।
এখন পুলিশের তথ্য যে সঠিক তা কে বলবে? কীভাবে বলবো যে সঠিক পরিসংখ্যান দিচ্ছে? এতগুলো অভিভাবকদের সামনে দাঁড় করিয়ে তথ্য না মেলালে কীভাবে বলবো কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা?
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এসব সংবাদে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা, অর্থাৎ কতজন উদ্ধার হয়েছে বা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে, সে তথ্য উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রতিফলিত হয়নি। এতে এ বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই বিএনপি সরকার এবং প্রশাসন একটাই কথা জানে, জনমনে বিভ্রান্তি। বিভ্রান্তির কী আছে এখানে? ঘটনা ঘটছে মারাত্মকভাবে। সত্য কথা বললেই হয়ে যায় বিভ্রান্তি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের বিষয়ে ৪৭৪টি জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৬৮ জনকে এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৯৭০ জন এখনো উদ্ধার হয়নি।
পুলিশের ভাষ্য, শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারায় এবং একাকী বাসায় ফিরতে গিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়।
অন্যদিকে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবের মতো কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু রয়েছে। ফলে নিখোঁজের বিষয়ে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিখোঁজের বিষয়ে ১৭ হাজার ৮০৮টি জিডি হয়েছিল। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০।
