ঢাকা: নির্বাচিত সরকার আসার পর আশা ছিলো হয়তো মব, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি কমবে।
কিন্তু না। ইউনূসের সেই শয়তান যুগের মতোই চলেছে সব।
ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালে মূলত সৃষ্ট হয়েছিল। তিনি ছিলেন মব মাস্টার।
তবে এখনো কিছু কমেনি।
ইউনুসীয় মব কালচারের অবসান হয়নি এখনো। কুষ্টিয়ায় পিটিয়ে মব করে সাধককে মেরে ফেলেছে একদল মানুষরুপী দুপেয়ে প্রাণী।
ইউনুসের দুঃশাসনের দেড় বছরের মব ভায়োলেন্সের এ ঘৃণ্য সংস্কৃতি এখনো চলমান। বন্ধ হয়নি বরং প্রশাসনের নীরব ভূমিকা দেখছি। অচিরেই হয়তো একটি সংস্কৃতি সভ্যতা বিলীন হয়ে জঙ্গলে পরিণত হবে দেশ।
মব সন্ত্রাসী তৈরি করে ক্ষমতা দখলকারী ইউনুস আমৃত্যু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেননি বরং একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করে তবেই ফিরেছেন!
গত এপ্রিল মাসেও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ২১ জন। এ সময়কালে সারাদেশে সন্ত্রাস বা গণপিটুনির ৪৯ ঘটনায় ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
এখনো বাড়ছে অজ্ঞাতনামা লাশ, বাড়ছে মব সন্ত্রাস। কিন্তু এসব প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।
মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গণপিটুনি ও মব সহিংসতার বিস্তার আইনের শাসনের দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
এর আগে, মার্চে ৩৬টি মব বা গণপিটুনির ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং ৩১ জন আহত হন।
এবং পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারিতে গণপিটুনিতে ১৮ জন, এর আগে জানুয়ারিতে ২১ জন এবং গত বছরের ডিসেম্বরে ১০ জন নিহত হন।
প্রতিবেদনে কুষ্টিয়ায় গত ১১ এপ্রিল পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম আল-জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যার উল্লেখ করা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্রে এমএসএফের পরিসংখ্যানে বলা হয়, গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসে হতাহতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলায় জনমনে নিরাপত্তা বোধের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে।
এপ্রিলে গণপিটুনির শিকার ৩০ জনকে আহতাবস্থায় পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
এছাড়া, গণপিটুনিতে নিহতের মধ্যে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগে, ৭ জনকে চুরির অভিযোগে, ৭ জনকে বাকবিতণ্ডার জেরে, ২ জনকে ডাকাতির অভিযোগে, একজনকে কটূক্তির অভিযোগে, একজনকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যা করা হয়।
আহতদের মধ্যে ১৭ জনকে চুরির অভিযোগে, একজনকে ছিনতাইয়ের অভিযোগে, একজনকে হত্যার অভিযোগে, ২ জনকে বাকবিতণ্ডার জেরে, ২ জনকে মাদক চোরাকারবারের অভিযোগ তুলে, ৭ জনকে জমি সংক্রান্ত কারণে, ৯ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা বা নিপীড়ণের অভিযোগে, একজনকে রাজনৈতিক কারণে, ২ জনকে পরকীয়ার জেরে এবং লেনদেনের জেরে, প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ৮ জনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়।
এমএসএফ এই ঘটনাগুলোর নিন্দা জানায়। আইন অবজ্ঞা করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা ফৌজদারি অপরাধ যা বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে।
এছাড়াও মার্চের তুলনায় এপ্রিলে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এপ্রিলে ৩১২টি সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের মাসের চেয়ে ২৩টি বেশি। এর মধ্যে ৫৪টি ধর্ষণ ও ১৪টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
