ঢাকা: সব জায়গায় প্রচুর পরিমাণে মশার উৎপাত বেড়ে গেছে। শুধু রাতের বেলা নয় দিনের বেলাতেও মশার অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ, মশারি এবং মশার কয়েল ব্যবহার করেও মানুষ মশা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারছে না।
শিশুরা খুব কষ্টে আছে। এইভাবে জীবন বাঁচে?
এতে করে মানুষ অজান্তেই বিভিন্ন প্রকার মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ছোট একটা মশার কামড়ই ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মশার কামড়ে আমরা দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
মশা বাহিত রোগের কারণে যেমন ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মশাবাহিত রোগ এবং মশা নিধনের জন্য প্রত্যেকটি এলাকায় অর্থ বরাদ্দ হয়ে থাকে, কিন্তু হলে কী হবে? মশা নিধনের জন্য কোনো কার্যক্রম, প্রচার বা স্প্রে করতে দেখা যায়না। নালা নর্দমাগুলোর তো অবস্থা নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর বড় একটি অংশ ডেঙ্গুর মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
জরিপে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মোট ২৭টি ওয়ার্ডকে লার্ভার উচ্চ ঘনত্বের কারণে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৩৬টি ওয়ার্ডকে ‘মাঝারি ঝুঁঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি যে কতটা মারাত্মক সেটা ঢাকাবাসী খুব ভালোভাবে জানে।
গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মোট ১২ দিন এই জরিপ পরিচালিত হয়। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএসসিসির নগরভবনে জরিপের ফল তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রশাসক আবদুস সালাম।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়, পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ির মধ্যে ২৮১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা (লার্ভার পরের স্তর) পাওয়া গেছে।
তার মধ্যে বহুতল ভবনে ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ, নির্মাণাধীন বাড়িতে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং সেমিপাকা বাড়িতে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যায়।
ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জানায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয় বরং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।চারদিকে যেন পানি জমা না হয়।
এদিকে, আগামিকাল ৬ জুন ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর থেকে পর্যায়ক্রমে বাকি অঞ্চলগুলোতেও এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এবং ৭ জুন থেকে ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে ৫ দিনব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়েছে।
পরবর্তী সপ্তাহে বাকি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬টি ওয়ার্ডেও ৫ দিনব্যাপী বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হবে।
