ঢাকা: সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দেশে। শিক্ষার্থী, পথচারী, কেউ বাদ নেই। একের পর এক আসে মৃত্যুর খবর।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ( শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে) ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন ৩৬০ জন শিক্ষার্থী। এবং ১০৯ জন আহত হয়েছেন।

সংখ্যাটা আরো বেশিও হতে পারে। বিষয়টা অত্যন্ত উদ্বেগের।

শনিবার (১১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়, এতে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়।

দেশের ইতিহাসে দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীর প্রাণহানির এমন দুর্ঘটনার পরেও সরকার শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামূলক কোনো কর্মসূচি নেয়নি।

অর্থাৎ সরকারের কোনো সজাগতা নেই।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটছে, আহত হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বলছে:

জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ শিক্ষার্থী নিহত এবং ২২ জন আহত হয়।

ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৭ শিক্ষার্থী নিহত ও ১১ জন আহত হয়,

মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় ৬৭ শিক্ষার্থী নিহত ও একজন আহত,

এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনা ৫৬ শিক্ষার্থী নিহত ও ২৫ জন আহত,

মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ শিক্ষার্থী নিহত এবং ২৩ জন এবং জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৬০ শিক্ষার্থী নিহত ও ২৭ জন আহত হয়।

শিক্ষার্থীদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। যতোই ঘটনা ঘটুক, দুর্ঘটনা ঘটুক সরকারের কোনো সজাগতা দেখা যায় না। না আছে কোনো সচেতনতামূলক প্রচার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *