ঢাকা: বিএনপির ৮ মাসে শুধুমাত্র ঢাকায় ৪০০ বেওয়ারিশ লাশ দাফন, সারাদেশে কত? খুন কত? কোন পথে যাওয়া দেশে বাস করছি আমরা মাবুদ?

বিএনপির আইনমন্ত্রী দাবী করেন, বিগত আট মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। তাহলে ঢাকায় ৪০০ বেওয়ারিশ লাশের দায় কার? ঢাকায় বেওয়ারিশ লাশের কি জবাব প্রধানমন্ত্রীর?

মাত্র আট মাসে ঢাকায় ৪০০টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন হয়েছে। ৪০০টি মরদেহ মানে ৪০০টি মানুষের মৃত্যু। ৪০০ পরিবারের মৃত্যু।‌কারণ একটি পরিবার থেকে একটি মানুষ নেই হওয়া মানে পরিবারটিই অর্ধমৃত হয়ে যায়। স্বাভাবিক মৃত্যু আলাদা বিষয়।

একটি রাজধানীতে আট মাসে যদি ৪০০টি মানুষ এমনভাবে মারা যান যে তাদের পরিচয়ও পাওয়া যায় না, তাহলে একই সময়ে সারা দেশে মোট কত মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন?

একদিকে শিশু নিখোঁজ, আরেকদিকে পরিচয়বিহীন লাশ দাফন, নদী নালা খালে বিলে লাশের সংখ্যা বাড়ছে- এগুলো কী কোনো সভ্য দেশে হয়?

রাজধানীর কোথাও খালে, কোথাও ঝিলে; কখনো ফুটপাতে, কখনো হাসপাতালের পাশে, আবার পরিত্যক্ত ভবন, নির্জন কোনো জায়গায় পড়ে থাকছে লাশ।

কে কাকে মেরে কখন ফেলে দিচ্ছে, তার কোনো হদিশ নেই। অপরাধী খুনী চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায়, পুলিশ বলে জানিনা। দেশটার হয়েছে কী?

কারও শরীরে মিলছে আঘাতের চিহ্ন, কারও মরদেহে পচন ধরায় মুছে যাচ্ছে পরিচয়ের শেষ চিহ্নটুকুও।

আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে রাজধানীতে ৪০০টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করা হয়েছে। একের পর এক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ গত শুক্রবার রাজধানীর শ্যামপুর থানার জুরাইন রেলওয়ে সেতুর নিচে একটি পরিত্যক্ত পাবলিক টয়লেট থেকে আনুমানিক ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ছেলেটির মাথার অংশে পচন ধরে হাঁড় বেরিয়ে এসেছিল। কপালেও ছিলো আঘাতের চিহ্ন।

ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। পরিচয় না মেলায় মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিটি বেওয়ারিশ লাশের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একজন মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধান, লাশ শনাক্তকরণ এবং মৃত্যুর কারণ তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কতটুকু কাজ হচ্ছে এক্ষেত্রে? খুনী কি ধরা পড়ছে? মনে হয় না। নাহলে সরকার বলতো না সুপারিশ কথা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও শুধু সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ বা বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বেওয়ারিশ লাশগুলোর পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে মাঠপর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন।

জনগণের সরল প্রশ্ন—আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে? রাষ্ট্রীয় বাহিনী যদি থাকে, রাষ্ট্রীয় বাজেট থাকে, বিপুল জনবল থাকে, প্রশিক্ষণ থাকে, আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি থাকে—তাহলে মানুষ কেন হত্যা, অপহরণ, নিখোঁজ ও অজ্ঞাত মরদেহের এত খবর শুনবে?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *