গাজীপুর: গাজীপুরের কাপাসিয়ার ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছে সবাইকে। তিন সন্তান, স্ত্রী ও শ্যালককে হত্যা করা হয় একসাথে। নির্মম এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া পড়েছে।

এই হত্যা মামলার আসামি ফোরকান মোল্লা পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। পুলিশ তাই সন্দেহ করছে।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ এমন ধারণা করছে। গত সোমবার সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এক ব্যক্তিকে পদ্মা সেতু থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা যায়।

এদিকে মেহেরপুর থেকে ফোরকানের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তবে ফোরকানের লাশ পাওয়া যায়নি। পদ্মা নদীসংলগ্ন সব থানায় ফোরকানের ছবিসহ তথ্য পাঠানো হয়েছে।

কোথাও অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধার হলে তথ্য জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে গাজীপুর পুলিশ।

উল্লেখযোগ্য যে, কাপাসিয়ার ঘটনাটি ঘটে গত ৮ মে রাতে। পাঁচ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরের দিন সকালে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওইদিনই ফোরকানকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় মামলা হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৯ মে সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিবেশীরা বাড়িটিতে গিয়ে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। স্ত্রী শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। আর রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ এবং কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করে পুলিশ।

পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *