ঢাকা: আমরা এখনো সাধারণ মানুষদের কাছে এভারেস্ট মানেই পৃথিবী। বিশাল এডভেঞ্চার। এবং অবশ্যই তাই।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট মানেই বরফে ঢাকা ধবধবে সাদা শৃঙ্গ আর রোমাঞ্চকর অভিযান। যারা গিয়েছেন তাঁদের বর্ণনায় রোমাঞ্চকর সব অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে।

যদিও বিশেষজ্ঞরা এখন চিন্তায় পড়েছেন। মাথায় হাত পড়েছে তাঁদের।

কারণ সম্প্রতি এক গবেষণা থেকে বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।

পর্বতারোহীদের ফেলে যাওয়া বর্জ্য ও মানুষের প্রতিদিনের কার্যকলাপের জেরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এভারেস্টের বিখ্যাত খুম্বু হিমবাহ (Khumbu Glacier)। বিশেষ করে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে জমা হওয়া মানুষের প্রস্রাব বরফ গলার গতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ আন্তর্জাতিক পত্রিকা সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্বতারোহণের মরশুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প মোটামুটি একটি ছোট শহরের চেহারা নেয়।

পর্বতারোহী, গাইড এবং অন্যান্য সহকারীদের মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষের জন্য সেখানে প্রায় হাজারের বেশি তাঁবু হয়।

আর এত মানুষের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থার জন্য প্রচুর পরিমাণে জ্বালানিরও ব্যবহার করা হয়।

এই জ্বালানি থেকে তৈরি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ তাপ।

সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মরশুমে রান্নাবান্না, তাঁবু গরম রাখা এবং জেনারেটর চালাতে ৮২৪টি সিলিন্ডার লেগেছে। এবং পাশাপাশি ১৮,৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫,১৩০০ লিটার গ্যাসোলিন ব্যবহার করা হয়েছে।

এত যদি জ্বালানি ব্যবহার হয় তাহলে প্রকৃতির ভারসাম্য থাকবে কোথায়?

গবেষকদের হিসেব বলছে, পুরো মরশুমে ক্যাম্পের জ্বালানি থেকে প্রায় ৮ লক্ষ ৪৯ হাজার জুল তাপ উৎপন্ন হয়েছিল। এই তাপ প্রায় ২,৪৯২ টন হিমবাহের বরফ গলিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এদিকে, এগুলো ছাড়াও প্রতিদিন ৬,০০০ লিটার প্রস্রাব জমা হচ্ছে হিমবাহে। এই প্রস্রাব তো আরো অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপরে ওঠার সময় শরীর সতেজ রাখতে পর্বতারোহীদের প্রচুর জল পান করতে হয়। এর ফলে প্রতিদিন তাঁদের প্রচুর প্রস্রাব হয়।

এগুলো বরফের উপর প্রভাব ফেলছে।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছনো মানুষজন সেখানেই আশপাশে প্রস্রাব করছেন। আর প্রস্রাবের উষ্ণতা হিমবাহকে ছুঁয়ে তাকে দ্রুত গলতে সাহায্য করছে।

এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে আসা মানুষজন প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্রত্যাগ করছেন এখানে। যা সরাসরি খুম্বু হিমবাহের গলনে প্রভাব ফেলছে। এমনটাই জানিয়েছেন গবেষকেরা।

বরফের এই বিশাল ভাণ্ডারের পরিবর্তন শুধু পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য নয়—ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

প্রকৃতির এই পরিবর্তন আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা—জলবায়ু রক্ষায় এখনই সচেতন হওয়ার সময়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *