ঢাকা: লাশের মৃত্যুপুরীতে আমাদের প্রতিদিন বসবাস। হয়তো খুনীর সাথেই ওঠাবসা হচ্ছে বলতে পারি না। দেশটাকে কোথায় নিয়ে গেলেন তারেক রহমান?
চলতি বছরের মে থেকে জুলাই—এই তিন মাসে সারা দেশে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে মোট ৯৩৪টি। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৩১১টির বেশি এবং প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
যদিও এই হিসাবেও সন্দেহ আছে। ঘটনা আরো বেশি হবে। চাপে পড়ে অনেক ঘটনার মামলা হয় না। মানুষ গুমড়ে মরে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের বরাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এহেন চিত্র উঠে এসেছে।
সম্প্রতি রংপুরের চক্রবর্তী পরিবারকে শেষ করে দেয়া হয়েছে। তাঁদের বাড়িতে আর একটা প্রাণীকেও বাঁচতে দেয়া হয়নি। রক্তের সম্পর্কের কেউ বেঁচে নেই।
একটি বাসায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় দেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা সরকার, প্রশাসন ঘটনার মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছে। জজ মিয়া নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে।
শুধু তাই না, একইসাথে সমাজে যতরকম অপরাধ আছে, সব বেড়েছে। চুরি-ডাকাতি, মব, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজ কোনটা কম?
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে কমবেশি ৩০০টির মতো খুনের ঘটনা ঘটছে। গড়ে প্রতিদিন ১০টি করে খুন যেন আমাদের ভাগ্যে লেখা রয়েছে।
সাত মাসে খুনের মামলা ২ হাজার ৭৬টি
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে খুন বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট ২ হাজার ৭৬টি মামলা হয়েছে।
এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি, মার্চে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি, মে মাসে ৩১০টি, জুনে ৩২৬টি এবং জুলাইয়ে ২৯৮টি মামলা হয়েছে।
এই হিসাবে মে, জুন ও জুলাই—তিন মাসেই খুনের মামলা হয়েছে ৯৩৪টি। আগস্ট মাস শেষ না হওয়ায় এ মাসের তথ্য এখনো পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক পরিসংখ্যানে যুক্ত হয়নি।
বাংলাদেশ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে, বছরের প্রথম সাত মাসে মব সহিংসতায় মারা গেছে ১৩৪ জন। একই সময় রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছে অন্তত ৭৭ জন।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতার আধিপত্য, রাজনৈতিক সংঘাত, মাদক এবং পারিবারিক কলহ বা বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি।
এসব অপরাধ দমনে বর্তমান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খান বলেন, নির্বাচিত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। পদ-পদবি নিয়েও সংঘাত হচ্ছে। এসব পরিস্থিতির দায় সরকারকে নিতে হবে।
