ঢাকা: মাদ্রাসা নিয়ে দেশে হাজার অভিযোগ আছেই। মাদ্রাসায় ধর্ষণ, মাদ্রাসায় বোমা তৈরি এইসব ঘটনা কিন্তু ঘটছেই বাংলাদেশে।
এবার তো আরেক ভয়ানক ঘটনার সাক্ষী হলো বাংলাদেশ।
মাদ্রাসায় পড়তে আসা একটি শিশুকে নির্যাতন করার দৃশ্য ভিডিও করে নিজেই সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন একজন শিক্ষক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি। সেখানে দেখা যায়, একটি শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্মমভাবে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে।
ভিডিওটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে সেই শিক্ষক ক্যাপশনে অত্যন্ত খারাপভাবে লেখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে।’
এরা শিক্ষক? এরা যে শিশুদের কী পরিমাণ নির্যাতন করে তার ভিডিও আমরা এর আগেও দেখেছি। এত অত্যাচার করার পরেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেই সরকার, প্রশাসনের।
ভিডিওটি প্রকাশের সঙ্গে জড়িত ইমরান হোসেন নামের এক সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক পরে আবার লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।
ক্ষমা চাইলেই কি সব শেষ হয়?
সমালোচনার মুখে ইমরান হোসেন ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, শিশুটিকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তবে নিজের আচরণ ভুল ছিল বলে স্বীকার করে তিনি ক্ষমা চান।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দুই মাস আগে ইমরান হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে শাস্তি দেওয়া এবং অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া শিশুদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ ছিল।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
