ঢাকা: ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন একজন সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি সাফ বললেন, “যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখে?”
বলা যায়, অনেকদিন পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহসী প্রতিবাদ দেখা গেলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালা ‘সংস্কারের’ অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর যে তিনটি ছবিকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছিল, সেসব ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষালয়টির সাবেক ছাত্র।
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবি তিনটি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার।
এবং তিনি কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
তিনি বলেছেন, “এদেশের ভাষা আন্দোলনের আসল নায়কদের বাদ দিয়ে পাকিস্তানের জাঁদরেল জিন্নাহর ছবি কেন ডাকসু রেখেছে তার জন্য প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের জবাব দিতে হবে। যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখে?
এখন তো তৈয়ব হাবিলদারকে ছিঁড়ে ফেলার অবস্থা দেখা যাচ্ছে জামাত শিবিরের। ক্ষেপে লাল হয়ে গেছে। তৈয়বের এখন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে!
আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবি তিনটি ছিঁড়ে ফেলেন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।
জানা গিয়েছে, আবু তৈয়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এবং সবশেষ ডাকসু নির্বাচনে তিনি সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
আবু তৈয়ব সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’
আবু তৈয়ব বলেন, ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো কথা ছিল কি না। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে শিবির।
আরও বলেন, ‘এই ডাকসুতে, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, এই বাংলাদেশে জিন্নাহর মতো কোনো ভিলেন, গোলাম আজম-নিজামীর মতো কোনো ভিলেন আমাদের নায়ক হতে পারে না, নায়ক হতে দেব না।’
